ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে বড় স্বস্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর চাপানো একতরফা শুল্ক খারিজ করে দিয়েছে Supreme Court of the United States। এর জেরে ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর ট্যারিফ বড়সড় হারে কমেছে। কিন্তু এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়: ট্রাম্পের শুল্ক বেআইনি
মার্কিন শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এত বড় শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রশাসন বিশেষ আইনের অপব্যবহার করেছে। ফলে এতদিন ধরে বিভিন্ন দেশের উপর চাপানো ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বাতিল করা হয়েছে।
৫০% থেকে ২৫%, তারপর ৩%—কীভাবে বদলাল হার?
গত অগাস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অভিযোগে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ। পরে সেই অতিরিক্ত অংশ প্রত্যাহার হলে কার্যকর হার নেমে আসে ২৫ শতাংশে।সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বর্তমানে শুল্ক কমে দাঁড়িয়েছে মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) স্তরে—প্রায় ৩ শতাংশে।
২৬%, ১৮%, ১০%—এই ওঠানামার পেছনে কী?
এপ্রিল মাসে প্রথমে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে তা ১০ শতাংশে নামানো হয়। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর কথা উঠলেও তা পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে গত কয়েক মাসে শুল্কহার ৫০%, ২৫%, ১৮%, ১০%—এভাবে একাধিক স্তরে ওঠানামা করেছে।
১০% নতুন বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার অধীনে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকতে পারে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
কোন কোন পণ্য প্রভাবিত হয়েছিল?
ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, সোলার প্যানেল, ওয়াশিং মেশিন—সহ একাধিক পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ভারতের রফতানি ক্ষেত্রেও চাপ পড়ে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি—‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কৌশল
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, শুল্ক বাড়িয়ে বিদেশি পণ্যের দাম বাড়ানো হলে দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা করা সম্ভব হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিশেষ করে চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করাই ছিল এই নীতির মূল লক্ষ্য।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আরোপিত একাধিক শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর শুল্ক নেমে এসেছে মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) স্তরে, প্রায় ৩ শতাংশে। তবে ১০ শতাংশ নতুন বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।












