বেঙ্গালুরুর দলীপ ট্রফি সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে ইস্ট জোন। এই জয়ের অন্যতম বড় কারিগর তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছরের এই ক্রিকেটার প্রথম ইনিংসে ঝড়ের গতিতে ৯২ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত ৪০ রান যোগ করেন। অর্থাৎ গোটা ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১৩২ রান। এত দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও অবশ্য ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার তাঁর হাতে ওঠেনি।
প্রথম ইনিংসেই ঝড় তুলেছিলেন বৈভব
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বৈভব মাত্র ৮১ বল খেলেই ৯২ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৭টি ছক্কা।তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং ইস্ট জোনকে শুরুতেই গতি এনে দেয়। পরের ইনিংসে ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও পিছিয়ে থাকেননি বৈভব। মাত্র ৪৩ বলে ৪০ রান করে দলকে দ্রুত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দেন।দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৩২ রান করার পর স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে হতে পারে, ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার বৈভবেরই প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ম্যাচের ফল নির্ধারণে আর একজনের অবদান ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ।
৩২ বছরের মুকেশের আগুনে বোলিং
বৈভবের থেকে বয়সে প্রায় ১৭ বছর বড় বাংলার পেসার মুকেশ কুমার এই ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে আসে মোট ৭টি উইকেট।প্রথম ইনিংসে মুকেশ তিনটি উইকেট তুলে নেন। তবে আসল পার্থক্য তৈরি হয় দ্বিতীয় ইনিংসে। মহম্মদ শামির সঙ্গে নতুন বলে জুটি বেঁধে সেন্ট্রাল জোনের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে মুকেশের চার উইকেট
সেন্ট্রাল জোনের ব্যাটারদের বড় রান করতে দেননি মুকেশ-শামি জুটি। মুকেশ একাই দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট তুলে নেন। ফলে ইস্ট জোনের সামনে জয়ের জন্য মাত্র ১৫৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।এই পরিস্থিতিতে বৈভবের ৪০ রানের ইনিংস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বোলিং পারফরম্যান্সের কারণে মুকেশ কুমারই শেষ পর্যন্ত প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।অর্থাৎ বৈভবের ১৩২ রান কোনওভাবেই ছোট করে দেখার মতো নয়। বরং ব্যাট হাতে তাঁর অবদান এবং মুকেশের বল হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স—দুটিই ইস্ট জোনের জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
বড় ম্যাচে বারবার জ্বলে উঠছেন বৈভব
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বয়স কম হলেও নক-আউট ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৬৭ রান। ২০২৫ সালের এসিসি রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করেন ৩৮ রান।এরপর ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৮ রান এবং ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
IPL-এও নক-আউট ম্যাচে দুরন্ত বৈভব
শুধু বয়সভিত্তিক ক্রিকেট নয়, আইপিএলের নক-আউট ম্যাচেও বৈভব নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ২০২৬ সালের এলিমিনেটরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯৭ রান। এরপর কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে করেন ৯৬।দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ৯২ এবং ৪০ রানের ইনিংস যোগ করে বড় ম্যাচে ধারাবাহিকতার আরও একটি নজির তৈরি করেছেন এই তরুণ।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০টি নক-আউট ম্যাচে বৈভবের সংগ্রহ ৭১৭ রান, গড় ৬৫-এর বেশি। ফলে মুকেশের হাতে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার গেলেও বৈভবের পারফরম্যান্স যে নজর কেড়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
এবার লক্ষ্য দলীপ ট্রফির ফাইনাল
সেন্ট্রাল জোনকে হারিয়ে ইস্ট জোন এখন দলীপ ট্রফির ফাইনালে। সেখানে বৈভবের ব্যাটের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। সেমিফাইনালে ১৩২ রান করার পর এবার ফাইনালেও বড় ইনিংস খেলে দলকে ট্রফি জেতানোই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নজর কাড়লেন বৈভব সূর্যবংশী। দুই ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এল মোট ১৩২ রান। কিন্তু ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠল বাংলার পেসার মুকেশ কুমারের হাতে। কেন বৈভবকে ছাপিয়ে গেলেন ৩২ বছরের বঙ্গ পেসার?










