রেল যাত্রায় নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। দিনের বন্দে ভারতের সাফল্যের পর এবার দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রায় বিপ্লব আনতে প্রস্তুত ভারতীয় রেল। কলকাতা ও গুয়াহাটিকে যুক্ত করা এই অত্যাধুনিক ট্রেন আজই ট্রায়াল রানের পথে পা বাড়াতে পারে।
হাওড়া–গুয়াহাটির মাঝে নতুন রেল মাইলফলক পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগে গতি
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি হাওড়া থেকে গুয়াহাটির কামাখ্যা পর্যন্ত চলবে। এই রুটে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মোট নয়টি জেলার উপর দিয়ে যাতায়াত করবে ট্রেনটি। ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রাপথ হবে আরও দ্রুত ও আরামদায়ক।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উজ্জ্বল উদাহরণ
এই স্লিপার ট্রেনটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। বগি, প্রপালশন সিস্টেম এবং ভেহিকেল কন্ট্রোল সিস্টেম—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই ভারতে ডিজাইন ও নির্মিত, যা একে শতভাগ ভারতীয় ট্রেন সেটে পরিণত করেছে।
গতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দি ১৮০ কিমি গতির ক্ষমতা, চলবে ১৩০ কিমিতে
ডিজাইনের দিক থেকে ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। তবে যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিয়মিত পরিষেবায় এটি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলবে।
‘কবচ’ প্রযুক্তিতে বাড়তি সুরক্ষা
এই ট্রেনে থাকছে দেশীয় স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য থাকছে ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক সিস্টেম।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে বিশেষ নজর আধুনিক স্যানিটেশন ও অ্যারোডাইনামিক নকশা
উচ্চমানের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ট্রেনে থাকছে আধুনিক জীবাণুমুক্তকরণ প্রযুক্তি। অ্যারোডাইনামিক বাহ্যিক নকশা ট্রেনের শক্তি দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
স্বয়ংক্রিয় দরজা ও উন্নত চালক কেবিন
স্বয়ংক্রিয় বাহ্যিক যাত্রিবাহী দরজা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করবে। চালকের কেবিনে থাকছে উন্নত কন্ট্রোল সিস্টেম, যা নির্ভুল ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়ক।
কবে ট্রায়াল রান?আজই দিল্লি থেকে রওনা
রেল সূত্রে খবর, আজই দিল্লি থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন সেট হাওড়া ও গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দিতে পারে। নির্দিষ্ট রুটে উভয় দিক থেকেই টেস্ট রান চালানো হবে। সফল ট্রায়ালের পরই বাণিজ্যিক পরিষেবার সময়সূচি ঘোষণা করবে রেল।
ভারতীয় রেলের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত। আজই দিল্লি থেকে হাওড়া ও গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দিতে পারে ট্রেন সেট। অত্যাধুনিক নিরাপত্তা, দেশীয় প্রযুক্তি ও বিলাসবহুল যাত্রা—সব মিলিয়ে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।











