বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে খাবারের মেনু। অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সময় যাত্রীদের সামনে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের বিকল্প থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—কেন বাদ আমিষ? এই বিতর্ক এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ ও IRCTC একযোগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
নিরামিষ মেনু ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের মেনু প্রকাশ করেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা উল্লেখ থাকলেও তালিকায় কোনও আমিষ পদ না থাকায় শুরু হয় আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দেশের প্রিমিয়াম ট্রেনে আমিষের বিকল্প কেন রাখা হয়নি?
রেলের ব্যাখ্যা: সিদ্ধান্ত IRCTC-র
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অনবোর্ড ক্যাটারিং সম্পূর্ণভাবে IRCTC পরিচালনা করে। রেলের বক্তব্য, “খাবার নির্ধারণ আমাদের দায়িত্ব নয়। IRCTC যে মেনু ঠিক করে, সেটাই পরিবেশন করা হয়।”
IRCTC কী বলছে?
IRCTC জানিয়েছে, তারা স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। রেল বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী মেনু তৈরি করা হয়েছে। অতীতেও বৈষ্ণোদেবী, কাটরা কিংবা হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত ট্রেনে নির্দিষ্ট সময় শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল—এমন নজির রয়েছে।
কী থাকছে বন্দে ভারত স্লিপারের থালায়?
বাঙালি নিরামিষ মেনুতে থাকছে—
বাসন্তী পোলাও/ভেজ পোলাও, ফুলকা রুটি, ছানার ডালনা বা ধোকার ডালনা, আলু-ফুলকপি ভাজা, মুগ বা ছোলার ডাল এবং মিষ্টান্ন হিসেবে সন্দেশ, কালো জাম বা রসগোল্লা।
অসমিয়া মেনুতে রয়েছে—
জোহা রাইস বা জিরা পোলাও, ফুলকা, মটর পনীর (অসমিয়া স্টাইল), আলু-বিনস ভাজা, বিভিন্ন ডাল ও নারকেল বরফি বা লাল মোহন।
রাজনৈতিক রং লাগার আশঙ্কা
যদিও রেল এই বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, তবু বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে। তবে সরকারি মহলের দাবি—এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কোনও ধর্মীয় বা আদর্শগত চাপ নেই।
নতুন চালু হওয়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আমিষ খাবার না থাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। যদিও রেল ও IRCTC স্পষ্ট জানিয়েছে, অনবোর্ড ক্যাটারিংয়ের সিদ্ধান্ত নীতিগত এবং এতে কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।












