উত্তর-পূর্ব কোণে টয়লেট? বাস্তুশাস্ত্র বলছে সর্বনাশের ইঙ্গিত! সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন ও অশান্তির আশঙ্কা

উত্তর-পূর্ব কোণে টয়লেট? বাস্তুশাস্ত্র বলছে সর্বনাশের ইঙ্গিত! সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন ও অশান্তির আশঙ্কা

বাড়ি মানেই শৌচালয় থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই টয়লেট যদি ভুল দিকে তৈরি হয়? বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির নির্দিষ্ট কোণে টয়লেট থাকলে তা স্বাস্থ্য, অর্থভাগ্য ও পারিবারিক সম্পর্কে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞ অতুল কুমার বিশ্বাস।

ঈশান কোণে টয়লেট মানেই অশুভ প্রভাব?

বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিক বা ঈশান কোণকে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে ধরা হয়। এই অংশ দেবস্থান বা পূজার ঘরের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কোণে টয়লেট থাকলে সংসারে অশান্তি, আর্থিক ক্ষতি ও ভাগ্যহানি ঘটতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্থিরতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সন্তানের পড়াশোনা ও সম্পর্কে টানাপোড়েন

ঈশান কোণে টয়লেট থাকলে বাড়ির সন্তানের পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি বাস্তু বিশেষজ্ঞদের। ছোটখাটো বিষয়েও ঝগড়া-বিবাদ বাড়তে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে টয়লেট থাকলে রাগ বৃদ্ধি ও দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকেও সতর্কবার্তা

দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ স্থিতি ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এই দিকে টয়লেট থাকলে চাকরি বা ব্যবসায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে পশ্চিম দিকে টয়লেট থাকলে আয় থাকা সত্ত্বেও অর্থ সঞ্চয়ে সমস্যা হতে পারে—উপার্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কোন দিক টয়লেটের জন্য উপযুক্ত?

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী উত্তর-পশ্চিম (বায়ু কোণ) বা দক্ষিণ দিক টয়লেট-বাথরুমের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত। তবে ইতিমধ্যেই যদি ভুল দিকে টয়লেট তৈরি হয়ে থাকে, তা হলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখলে নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টয়লেটের ভুল অবস্থান ডেকে আনতে পারে অর্থকষ্ট, মানসিক অশান্তি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন—এমনটাই মত বিশিষ্ট বাস্তু বিশেষজ্ঞ অতুল কুমার বিশ্বাসের। বিশেষত উত্তর-পূর্ব (ঈশান) কোণে টয়লেট থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি। তবে কিছু সহজ প্রতিকার মেনে চললে বাস্তু দোষ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Leave a comment