দেশে যখন ভেদাভেদের রাজনীতি, সামাজিক বিভাজন ও মতবিরোধ ক্রমেই প্রকট, তখন স্বামী বিবেকানন্দের বিশ্বজনীন সম্প্রীতির বার্তাই হোক পথচলার দিশা—বিবেক জয়ন্তীতে এমনই আহ্বান জানালেন বাংলার শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ১২ জানুয়ারি স্বামীজির ১৬৪তম জন্মদিনে তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে রাজ্য ও দেশের রাজনীতিতে উঠে এল ঐক্যের বার্তা।
স্বামীজির আদর্শেই পথচলার আহ্বান মমতার
সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ভারতের স্বাদেশিক আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দ দেশপ্রেম, দরিদ্রনারায়ণের সেবা ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা গড়ে তোলাই স্বামীজির আদর্শের প্রকৃত অনুসরণ—এমনই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘ভেদাভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্বামীজিই পাথেয়’—অভিষেক
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে শ্রদ্ধা জানান। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনা আজও ভারতের নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিবেককে আলোকিত করে। যখন ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করার প্রবণতা বাড়ছে, তখন স্বামীজির ‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’-এর দর্শনই হওয়া উচিত সমাজের মূল শক্তি।
এক্স হ্যান্ডলে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। স্বামীজির বাণী সম্বলিত ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা ভারতের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির ভিত্তি। শক্তি, করুণা ও মানবসেবার সমন্বয়ের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
সিমলা স্ট্রিটে শ্রদ্ধা, রাজনীতির ছায়াও স্পষ্ট
বিবেক জয়ন্তীর সকালে কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা ও স্থানীয় নেতৃত্ব। পরে সেখানে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দুই পক্ষের উপস্থিতি ঘিরে সাময়িক চাপানউতোর হলেও শেষ পর্যন্ত সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হয়।
শ্রদ্ধা-অনুষ্ঠানেও রাজনীতির টানাপোড়েন
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন জাতীয় স্তরে ঐক্যের প্রতীক হলেও, বাস্তবে সেই অনুষ্ঠানও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে থাকল না। তবু শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই স্বামীজির আদর্শকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকীতে সম্প্রীতি, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবসেবার বার্তাকে সামনে রেখে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে স্বামীজিকে স্মরণ করেন। তবে শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ এড়ানো গেল না সিমলা স্ট্রিটে।








