বাথরুমের ওয়াশবেসিন দেখতে পরিষ্কার হলেও নিয়মিত ব্যবহারের কারণে তার গায়ে ধীরে ধীরে জলের দাগ, সাবানের আস্তরণ এবং অন্যান্য ময়লা জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সেই স্তরই হলুদ ও জেদি দাগের আকার নেয়। তখন যতই ঘষুন, সহজে পরিষ্কার হতে চায় না। তবে কয়েকটি ঘরোয়া উপকরণ কাজে লাগিয়ে খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই বেসিনের ময়লা ও দাগ পরিষ্কার করা সম্ভব।
কেন ওয়াশবেসিনে হলুদ দাগ পড়ে?
প্রতিদিন হাত ধোয়া, দাঁত মাজা কিংবা মুখ পরিষ্কার করার সময় বেসিনে জল, সাবান ও টুথপেস্টের কণা জমে থাকে। তার সঙ্গে জলের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের স্তরও ধীরে ধীরে বেসিনের উপর জমতে পারে।সময়মতো পরিষ্কার না করলে এই আস্তরণ শক্ত হয়ে যায়। ফলে বেসিনে হলদেটে বা ময়লা দাগ দেখা দেয় এবং সাধারণ জল দিয়ে তা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
লেবু-বেকিং সোডার মিশ্রণ বানাবেন কীভাবে?
এই ঘরোয়া পরিষ্কারক তৈরি করতে লাগবে মাত্র কয়েকটি সহজ উপকরণ—
২টি লেবু
১ চা চামচ বেকিং সোডা
১ কাপ হালকা গরম জল
প্রথমে লেবুর রস বের করে নিন। এবার তাতে বেকিং সোডা মেশান। মেশানোর সময় ফেনা তৈরি হতে পারে। ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্টের মতো করে নিন।
দাগের উপর লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট
এবার তৈরি মিশ্রণটি ওয়াশবেসিনের হলুদ দাগ ও ময়লা জমা অংশে ভালোভাবে লাগিয়ে দিন। সঙ্গে সঙ্গে ঘষে ফেলবেন না। মিশ্রণটিকে প্রায় ১০-১৫ মিনিট কাজ করার সুযোগ দিন।এরপর প্রয়োজন হলে নরম স্ক্রাবার বা ব্রাশ দিয়ে হালকা হাতে ঘষুন। খুব জোরে ঘষার দরকার নেই। সবশেষে হালকা গরম জল দিয়ে বেসিনটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন।লেবুর অম্লীয় উপাদান দাগ ও খনিজের আস্তরণ আলগা করতে সাহায্য করতে পারে, আর বেকিং সোডা হালকা স্ক্রাবারের মতো কাজ করে।
ভিনিগারও ব্যবহার করতে পারেন
লেবু না থাকলে সাদা ভিনিগারও দাগ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা যায়। জেদি দাগের ক্ষেত্রে ভিনিগার কিছুক্ষণ রেখে তারপর নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করার পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে।তবে যে কোনও নতুন পরিষ্কারক প্রথমবার ব্যবহার করার আগে বেসিনের ছোট ও চোখে না পড়া অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে মার্বেল, প্রাকৃতিক পাথর বা অ্যাসিডে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন পৃষ্ঠে লেবু বা ভিনিগার ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
বেসিন পরিষ্কারের সময় এই ভুল করবেন না
দাগ তুলতে গিয়ে শক্ত ধাতব স্ক্রাবার দিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে বেসিনের পৃষ্ঠে আঁচড় পড়তে পারে। তাই নরম ব্রাশ বা স্ক্রাবার ব্যবহার করাই ভালো।আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ব্লিচ বা অন্য রাসায়নিক ক্লিনারের সঙ্গে ভিনিগার বা লেবুর মতো অ্যাসিডিক উপাদান মেশাবেন না। আলাদা আলাদা সময়ে ব্যবহার করাই নিরাপদ।
প্রতিদিনের ব্যবহার, জলের দাগ, সাবানের আস্তরণ ও টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ জমে সাদা ওয়াশবেসিনে ধীরে ধীরে হলুদ বা ময়লার স্তর তৈরি হতে পারে। বারবার ঘষেও যদি দাগ না ওঠে, তাহলে বাড়িতে থাকা লেবু, বেকিং সোডা ও হালকা গরম জল দিয়ে তৈরি মিশ্রণ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।










