ব্যস্ত জীবনে কাপড় পরিষ্কারের জন্য ওয়াশিং মেশিন এখন বহু বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্র। কিন্তু মেশিন নিয়মিত ব্যবহার করলে বিদ্যুতের বিল কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। বিশেষ করে প্রতিদিন আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা মেশিন চালালে মাসে আনুমানিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে, সেটি জানা থাকলে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।
৫০০ ওয়াটের ওয়াশিং মেশিনে এক ঘণ্টায় কত ইউনিট?
বিদ্যুৎ খরচের একটি সহজ উদাহরণ ধরলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কোনও ওয়াশিং মেশিনের পাওয়ার যদি ৫০০ ওয়াট হয়, তাহলে সেটি ০.৫ কিলোওয়াটের সমান।মেশিনটি যদি একটানা এক ঘণ্টা একই ক্ষমতায় চলে, তাহলে তাত্ত্বিকভাবে বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রায় ০.৫ ইউনিট।অর্থাৎ, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা হলে এক ঘণ্টায় খরচ হতে পারে প্রায় ৪ টাকা। আর প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকা হলে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৫ টাকা।তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি সরল হিসাব। বাস্তবে ওয়াশিং মেশিন পুরো সময় একই হারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট চালালে মাসে কত খরচ?
ধরা যাক, ৫০০ ওয়াটের একটি মেশিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে চালানো হচ্ছে এবং এই সময় মেশিনটি গড়ে একই হারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
৩০ মিনিট অর্থাৎ ০.৫ ঘণ্টায় আনুমানিক বিদ্যুৎ খরচ:
০.৫ কিলোওয়াট × ০.৫ ঘণ্টা = ০.২৫ ইউনিট
৩০ দিনে মোট খরচ:
০.২৫ × ৩০ = ৭.৫ ইউনিট
এবার প্রতি ইউনিট ৮ টাকা হলে মাসিক খরচ প্রায় ৬০ টাকা। প্রতি ইউনিট ১০ টাকা হলে তা প্রায় ৭৫ টাকা।
অবশ্য এটি শুধুমাত্র উদাহরণভিত্তিক হিসাব। আপনার মেশিনের প্রকৃত পাওয়ার, ওয়াশ সাইকেল এবং স্থানীয় বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুযায়ী বিলের পরিমাণ বদলাবে।
এক ঘণ্টা মেশিন চললেই কি ০.৫ ইউনিট খরচ হবে?
না, সবসময় এমনটা নয়। মেশিনের টাইমার এক ঘণ্টা দেখালেও পুরো এক ঘণ্টা মোটর একই ক্ষমতায় চলে না। ওয়াশিং সাইকেলের বিভিন্ন পর্যায়ে মোটর, পাম্প এবং অন্যান্য অংশ আলাদা সময়ে কাজ করে।তাই শুধু মেশিন কতক্ষণ চালানো হয়েছে, সেটি দেখে প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ নির্ধারণ করা যায় না। একটি ওয়াশ সাইকেলে প্রায় ০.৩ থেকে ১.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত শক্তি প্রয়োজন হতে পারে—মেশিন ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এই পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
গরম জলে কাপড় ধুলে কেন বিল বাড়তে পারে?
ওয়াশিং মেশিনে যদি বিল্ট-ইন হিটার থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। কারণ জল গরম করতে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োজন হয়।তাই কাপড়ের ধরন বা ময়লার মাত্রার জন্য প্রয়োজন না থাকলে প্রতিবার গরম জলের মোড ব্যবহার না করাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি উপায়। অনেক ক্ষেত্রে ঠান্ডা জলে সাধারণ ওয়াশ মোড ব্যবহার করলেই কাজ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ বাঁচাতে কী করবেন?
ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের সময় কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অপ্রয়োজনে মেশিন খালি চালাবেন না।
সম্ভব হলে কাপড় একসঙ্গে জমিয়ে উপযুক্ত লোডে ওয়াশ করুন।
প্রয়োজন না থাকলে হট-ওয়াটার মোড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
কাপড় ধোয়ার আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে অতিরিক্ত শক্তিশালী সাইকেলের প্রয়োজন কমতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ওয়াশিং মোড বেছে নিন।
অকারণে পরপর একাধিক ওয়াশ সাইকেল চালাবেন না।
ওয়াশ শেষ হয়ে গেলে মেশিন বন্ধ করে দিন।
ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া সহজ হলেও অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুতের বিলে কতটা প্রভাব পড়ে। মেশিনের ক্ষমতা, ওয়াশিং মোড এবং হিটার ব্যবহারের উপর বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই নির্ভর করে। ৫০০ ওয়াটের মেশিন এক ঘণ্টা একই হারে চললে প্রায় ০.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তবে বাস্তবে পুরো ওয়াশ সাইকেলে খরচ এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে।













