পরীক্ষা যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়ির অন্দরমহলে বাড়তে থাকে একটাই চিন্তা—“ঘন্টার পর ঘন্টা পড়েও কেন মনে থাকছে না কিছু?” শুধু পরিশ্রম করলেই যে ভাল ফল মিলবে, তা নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভুল সময়ে পড়াশোনা করার অভ্যাস। কারণ দিনের সব সময় মস্তিষ্ক একইভাবে সক্রিয় থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু সময়ে ব্রেন সবচেয়ে বেশি সতেজ ও গ্রহণক্ষম থাকে। সেই সময় পড়াশোনা করলে মনোযোগ বাড়ে, দ্রুত শেখা যায় এবং পড়া দীর্ঘক্ষণ মনে গেঁথেও থাকে।
সকাল নাকি রাত? পড়াশোনার সময় নিয়েই চর্চা
পড়াশোনার জন্য কোন সময় সবচেয়ে ভাল—এই বিতর্ক বহু পুরনো। কেউ ভোরবেলার শান্ত পরিবেশে পড়তে স্বচ্ছন্দ, আবার কেউ রাত জেগে পড়তেই বেশি মনোযোগ পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’টি সময়েরই আলাদা উপকারিতা রয়েছে। তবে কোন সময় আপনার জন্য বেশি কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে আপনার শরীরের অভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনের উপর।
সকালে পড়লে কেন বেশি মনে থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক অনেকটাই সতেজ থাকে। তাই সকালবেলা নতুন বিষয় শেখা বা কঠিন অধ্যায় বোঝা তুলনামূলক সহজ হয়। বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান বা বিশ্লেষণধর্মী বিষয় সকালে পড়লে দ্রুত আয়ত্তে আসে।সকালের নির্মল পরিবেশ, কম শব্দ এবং ফ্রেশ মাইন্ড মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, দিনের শুরুতেই পড়াশোনা করলে সারাদিন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো—সবচেয়ে কার্যকর সময়?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। কারণ এই সময় শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় এবং ব্রেন তথ্য দ্রুত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।বিশেষত জলখাবার খাওয়ার পর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে। ফলে নতুন তথ্য সহজে মনে থাকে এবং দীর্ঘসময় ধরে ধরে রাখা যায়। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা মুখস্থের পড়া এই সময় করলে বেশি লাভ হতে পারে।
রাতের পড়াশোনারও রয়েছে আলাদা সুবিধা
দিনভর ব্যস্ততার পর রাতের নিরিবিলি পরিবেশ অনেকের কাছে আদর্শ পড়ার সময়। রাতে বাইরের শব্দ কম থাকে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাহিত্য, সৃজনশীল লেখা বা রিভিশনের মতো কাজ রাতে ভালভাবে করা যায়। পাশাপাশি মোবাইল বা টিভি থেকে দূরে থেকে পড়লে ঘুমের মানও উন্নত হয়।
বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা—মস্তিষ্কের দ্বিতীয় ‘অ্যাকটিভ জোন’
গবেষকদের মতে, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টার মধ্যেও মস্তিষ্ক যথেষ্ট সক্রিয় থাকে। এই সময়ে বিশ্লেষণমূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান বা অনুশীলনভিত্তিক পড়াশোনা ভাল হতে পারে।অনেক ছাত্রছাত্রী এই সময়টাতে বেশি এনার্জেটিক অনুভব করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রেখে পড়া সম্ভব হয়।
খুব ভোরে উঠে পড়া কি সত্যিই উপকারী?
অনেক বাড়িতেই এখনও বিশ্বাস করা হয়, ভোরে উঠে জোরে জোরে পড়লেই সব মুখস্থ হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত ভোরে ঘুম থেকে উঠলে অনেক সময় মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় থাকে না।ঘুম কাটতে সময় লাগে বলেই তখন মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই ঘুম কমিয়ে জোর করে পড়ার বদলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে সঠিক সময়ে পড়াশোনা করাই বেশি কার্যকর।
পড়াশোনার সময় ঠিক করার আগে কী মাথায় রাখবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক মানুষের ‘বডি ক্লক’ আলাদা। কেউ সকালে বেশি মনোযোগী, আবার কেউ রাতে বেশি সক্রিয়। তাই নিজের অভ্যাস বুঝে সময় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।একইসঙ্গে নিয়মিত ঘুম, সঠিক খাবার, মোবাইল থেকে দূরত্ব এবং নির্দিষ্ট রুটিন—এই চারটি বিষয়ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বারবার পড়েও কিছু মনে থাকছে না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পড়ার পরিমাণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল ‘সঠিক সময়’। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। সেই সময় পড়লে সহজেই মনে গেঁথে যেতে পারে কঠিন বিষয়ও। সকাল, বিকেল নাকি রাত—কখন পড়াশোনা করলে সবচেয়ে বেশি লাভ, জানুন বিস্তারিত।













