শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মহিলাদের মাসে ₹৩০০০ সহায়তা ₹৫ মাছ-ভাত প্রকল্প ও মদের দোকানে নতুন বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মহিলাদের মাসিক ₹৩০০০ সহায়তা, ₹৫ মূল্যে মাছ-ভাত সরবরাহ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন মদের দোকানে নিষেধাজ্ঞা এবং পৃথক আয়ুষ দফতর গঠনের ঘোষণা করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মহিলা, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং যুবকদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার শীঘ্রই “অন্নপূর্ণা যোজনা” চালু করবে, যার আওতায় যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ₹৩০০০ আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে। এছাড়াও, রাজ্যজুড়ে বিশেষ ক্যান্টিনের মাধ্যমে ₹৫ মূল্যে মাছ-ভাতের খাবার সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

নদিয়া জেলার কল্যাণীতে একটি প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২৭ মে থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা এবং পারিবারিক স্তরে আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ₹৩০০০ স্থানান্তর করা হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প মহিলাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪০০টি বিশেষ ক্যান্টিনে সপ্তাহে দুই দিন ₹৫ মূল্যে মাছ ও ভাতের খাবার সরবরাহ করবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য স্বল্প মূল্যে খাবার নিশ্চিত করা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্কুল, কলেজ, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নতুন মদের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য যুবকদের নেশা থেকে দূরে রাখা এবং সংবেদনশীল এলাকায় সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একইসঙ্গে, কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন এই সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক প্রভাব পড়তে পারে বলে মত প্রকাশ করলেও সরকার জনস্বার্থ ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মহিলাদের মাসে ₹৩০০০ সহায়তা ₹৫ মাছ-ভাত প্রকল্প ও মদের দোকানে নতুন বিধিনিষেধ

মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্য দফতর থেকে পৃথক একটি স্বাধীন আয়ুষ দফতর গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দফতরের আওতায় আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি-সহ প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও বিকল্প ব্যবস্থা উপলব্ধ করা হবে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর “জনতা দরবার” কর্মসূচিও আলোচনায় উঠে আসে। সোমবার আয়োজিত দ্বিতীয় জনতা দরবারে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন। সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। চাকরিপ্রার্থী যুবক-যুবতী, শিক্ষক, নার্স, পুলিশ নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া মহিলাসহ প্রবীণ নাগরিকেরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য উপস্থিত হন। বহু মানুষের হাতে নথি ও ফাইল দেখা যায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “ভারত মাতা কি জয়”, “বন্দে মাতরম” এবং “জয় শ্রী রাম” স্লোগান শোনা যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা, স্বল্প মূল্যের খাবার প্রকল্প এবং জনতা দরবারের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইসঙ্গে, মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিযুক্ত খাবার প্রকল্প এবং যুবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে সরকারের জনভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার নিজেকে সামাজিক কল্যাণ এবং জনসংযোগভিত্তিক প্রশাসনিক মডেল হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, স্বল্পমূল্যের খাদ্য প্রকল্প এবং প্রচলিত স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মাসগুলিতে এই প্রকল্পগুলির বাস্তব প্রভাব এবং রাজ্যের রাজনীতিতে তার প্রভাব পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Leave a comment