রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA)–র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নতুন করে আইনি পথে হাঁটার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে নবান্ন। রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা যায় কি না, সে বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে দফায় দফায় পরামর্শ চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
রিভিউ না কিউরেটিভ— কোন পথে রাজ্য?
আইনজ্ঞদের একাংশের মত, রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে অন্তত কিছুটা সময় চাওয়া ছাড়া আপাতত অন্য পথ নেই। তবে শীর্ষ আদালতের রায়ে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চই ডিএ সংক্রান্ত রায় দিয়েছিল। রিভিউ হলে সেই বেঞ্চেই বিষয়টি উঠতে পারে।নবান্ন সূত্রের খবর, প্রয়োজনে কিউরেটিভ পিটিশনের পথেও হাঁটার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সময়সীমা ও আইনি ভিত্তি— দু’দিকই বিচার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজ্যের সম্ভাব্য যুক্তি কী?
প্রশাসনিক মহলের দাবি, ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ইনক্রিমেন্ট, বেসিক পে ও প্রাপ্য ডিএ–র হিসেব এক নয়।
প্রতি বছর ন্যূনতম ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট
দপ্তরভেদে বেতন কাঠামোর পরিবর্তন
বছরে ডিএ–র হার একরকম না থাকা
এই জটিল আর্থিক হিসেব সম্পূর্ণ করতে আরও সময় প্রয়োজন— এমন যুক্তিই আদালতে তোলা হতে পারে।
সময় চাইলে আদালত সায় দেবে?
গত বছর ১৬ মে অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মেটানোর কথা বলেছিল। তখন ছ’মাস সময় চেয়েছিল রাজ্য।
আইনজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, ইতিমধ্যেই সময় চাওয়ার পর ফের একই যুক্তিতে সময় চাইলে আদালত কতটা সহানুভূতিশীল হবে? তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেই সংশয় রয়েছে।
আর্থিক চাপের যুক্তি
নবান্নের যুক্তি, সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ভোট আয়োজনের বড় অঙ্কের ব্যয় রয়েছে।
এ ছাড়া সদ্য ঘোষিত রাজ্য বাজেটে—
সরকারি কর্মীদের ৪% ডিএ বৃদ্ধি
বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধি
এই সব মিলিয়ে প্রায় ২২,৭০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ বাবদ আনুমানিক ১০,৪৪০ কোটি টাকা অবিলম্বে জোগাড় করাও কঠিন বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
নজরদারিতে কমিটি
বকেয়া ডিএ–র বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে ও কত ধাপে মেটানো হবে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে রাজ্যকে সেখানে নির্দিষ্ট রূপরেখা পেশ করতেই হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান ও কর্মচারী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“ম্যাটার ইজ় সাবজুডিস। আমি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”
অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির কড়া প্রতিক্রিয়া—
“রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টে গেলে আমরাও আমাদের বক্তব্য জানাব। বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ–র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে রাজ্য। রিভিউ না কিউরেটিভ পিটিশন— কোন পথে হাঁটা হবে, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে নবান্নে।










