ছুটি পেলেই বাঙালির পছন্দের গন্তব্য দিঘা। সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে অনেকেই ভাবেন, এই বিশাল জলরাশির ওপারে ঠিক কী রয়েছে? কোনও দেশ, নাকি আরেকটি সমুদ্র? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তরই লুকিয়ে রয়েছে ভূগোলের এক দারুণ তথ্যের মধ্যে।
দিঘার সমুদ্র আসলে কোথায় গিয়ে মিশেছে?
দিঘার উপকূল বঙ্গোপসাগরের অংশ। এই বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ দিকে গিয়ে মিলেছে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে। ফলে দিঘার সমুদ্রের সামনে দীর্ঘ পথজুড়ে রয়েছে শুধু জলরাশি।
ওপারে কোন দেশ নয়, রয়েছে একটি মহাদেশ
অনেকেই ভাবেন দিঘার সমুদ্রের ওপারে হয়তো শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য কোনও দেশ রয়েছে। কিন্তু সরাসরি দক্ষিণমুখী রেখা ধরে এগোলে মাঝখানে বড় কোনও স্থলভাগ না পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে।
কেন অ্যান্টার্কটিকার নাম উঠে আসে?
পৃথিবীর মানচিত্রে দিঘার অবস্থান উত্তর গোলার্ধে হলেও তার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলভাগ রয়েছে। এই জলরাশি পেরিয়ে যে প্রথম বৃহৎ স্থলভাগ পাওয়া যায়, সেটিই অ্যান্টার্কটিকা। তাই ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দিঘার সমুদ্রের ওপারে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের অবস্থান।
অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য
পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল মহাদেশ
অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা অনেক সময় মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়।
বরফে ঢাকা বিশাল ভূখণ্ড
মহাদেশটির প্রায় ৯৮ শতাংশ অংশই বরফে আবৃত।
কোনও স্থায়ী জনবসতি নেই
এখানে সাধারণ মানুষের বসবাস নেই। শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণার কাজে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
মুদ্রের দিগন্তে লুকিয়ে থাকা ভূগোলের বিস্ময়
দিঘার সৈকতে দাঁড়িয়ে যে দিগন্তরেখা দেখা যায়, তার ওপারে রয়েছে হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত সমুদ্রপথ। আর সেই দীর্ঘ জলযাত্রার শেষে অপেক্ষা করছে বরফে মোড়া অ্যান্টার্কটিকা। তাই দিঘার সমুদ্রের ওপারে কী রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি জিকে তথ্য নয়, বরং পৃথিবীর ভৌগোলিক বিস্ময়েরও এক অনন্য উদাহরণ।
দিঘার সমুদ্রের দিগন্তরেখার ওপারে কী রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। সাধারণভাবে মনে হলেও এর উত্তর বেশ চমকপ্রদ। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দিঘার সৈকত থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায়।













