আম খাওয়ার আগে জলে ভিজিয়ে রাখতেন ঠাকুমা-দিদিমারা, জানেন কেন? কারণ জানলে আপনিও আজ থেকেই এই অভ্যাস করবেন

আম খাওয়ার আগে বোঁটা কেটে জলে ভিজিয়ে রাখার প্রথার পিছনে কী কারণ রয়েছে? কষ, কীটনাশক, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

বাংলার গ্রীষ্ম আর আম—এই দুই যেন একে অপরের পরিপূরক। হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ কিংবা আম্রপালি—রসাল আমের স্বাদে মজে থাকেন ছোট থেকে বড় সবাই। তবে আগে বাড়িতে আম এলেই ঠাকুমা বা দিদিমারা প্রথমে সেটিকে জলে ডুবিয়ে রাখতেন। অনেকেই ভাবতেন এটি শুধুই একটি পুরনো অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পিছনে রয়েছে স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

কেন জলে ভিজিয়ে রাখা হত আম?

অনেক পরিবারে এখনও আম খাওয়ার আগে বোঁটা কেটে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখার রীতি রয়েছে। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল আমের কষ বের করে দেওয়া এবং ফলটিকে পরিষ্কার করা।প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে আম খাওয়ার পর শরীর গরম লাগা বা হজমের অস্বস্তি কিছুটা কম হতে পারে।

কষ ও ফাইটিক অ্যাসিড নিয়ে কী ধারণা রয়েছে?

আমের বোঁটার কাছাকাছি অংশে কিছু কষ জাতীয় উপাদান থাকে। অনেকের মতে, দীর্ঘক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলে এই কষের কিছু অংশ বেরিয়ে আসে।এছাড়া আমে প্রাকৃতিকভাবে থাকা কিছু যৌগ, যেমন ফাইটিক অ্যাসিড, খনিজ শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়। যদিও এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে একরকম নয়, তবুও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে জলে ভিজিয়ে রাখলে আম খাওয়া আরও আরামদায়ক হয়।

কীটনাশক ও ধুলো-ময়লা পরিষ্কারে সহায়ক

বাজার থেকে কেনা ফলের গায়ে ধুলো, ময়লা বা কীটনাশকের সামান্য অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। আম কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলে বাইরের আবরণে লেগে থাকা ময়লা অনেকটাই আলগা হয়ে যায়।এর ফলে ফলটি আরও পরিষ্কার অবস্থায় খাওয়া সম্ভব হয়। খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি একটি ভালো অভ্যাস বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের ক্ষেত্রে সতর্কতা

বর্তমানে বাজারে অনেক সময় দ্রুত পাকানোর জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদিও অনুমোদিত পদ্ধতি রয়েছে, তবুও ক্রেতাদের মধ্যে কৃত্রিমভাবে পাকানো ফল নিয়ে উদ্বেগ থাকে।আম জলে ভিজিয়ে রাখলে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ ধুয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। ফলে ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

আম কি সত্যিই ‘ঠান্ডা’ হয়ে যায়?

অনেকের মতে, স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে কিছুক্ষণ রাখলে আমের ভেতরের তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে ফলটি আরও সতেজ লাগে এবং খেতেও বেশি আরামদায়ক মনে হয়।

বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের দিনে ঠান্ডা জলে ভেজানো আম খেলে স্বস্তি পাওয়া যায় বলেই বহু মানুষের অভিজ্ঞতা।

আম ভিজিয়ে রাখার সঠিক পদ্ধতি

প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিন

বাজার থেকে আনা আম পরিষ্কার জলে একবার ধুয়ে নিন।

বোঁটার অংশ কেটে দিন

আমের বোঁটার অংশ সামান্য কেটে দিলে কষ বের হওয়ার সুযোগ থাকে।

পরিষ্কার জলে ডুবিয়ে রাখুন

একটি বড় পাত্রে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা আম ডুবিয়ে রাখুন।

অতিরিক্ত সময় ভিজিয়ে রাখবেন না

৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি জলে রাখলে ফলের গুণমান ও স্বাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্যকরভাবে আম খাওয়ার আরও কিছু টিপস

অতিরিক্ত আম একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।

ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খান।

আম খাওয়ার পরে পর্যাপ্ত জল পান করুন।

কাটা আম দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে খাবেন না।

গরমের মরশুমে আম খাওয়ার আগে বোঁটা কেটে জলে ভিজিয়ে রাখার প্রথা বহু পুরনো। শুধু লোকাচার নয়, এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও। বিশেষজ্ঞদের মতে, আম জলে ভিজিয়ে রাখলে ময়লা, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং কষের প্রভাব কমতে পারে। পাশাপাশি অনেকের মতে এতে আম খাওয়ার পর অস্বস্তি বা শরীর গরম লাগার সমস্যাও কিছুটা কমে।

Leave a comment