আর অপরাধবোধ নয়! কর্মরত মায়েরা দ্বিধায় না ভুগে এই কথাগুলি একবার ভেবে দেখুন

কর্মরত মায়েরা কেন অপরাধবোধে ভোগেন? সন্তান ও কেরিয়ারের ভারসাম্য রাখতে মানসিক চাপ কমানোর সহজ ও বাস্তব টিপস রইল এই প্রতিবেদনে।

মাতৃত্বের প্রথম কয়েকটা মাস চোখের পলকে কেটে যায়। তারপরই শুরু হয় নতুন দৌড়—ব্যাগ কাঁধে অফিস, মনে সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট। একদিকে দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন। এই টানাপোড়েনে বুক ফাটলেও অনেক কর্মরত মা মুখ খুলতে পারেন না। ধীরে ধীরে গ্রাস করে অপরাধবোধ। কিন্তু সত্যিই কি এই অপরাধবোধের কোনও প্রয়োজন আছে? উত্তর—না। সময় এসেছে নিজেকে দোষারোপ না করে বাস্তবটা বুঝে নেওয়ার।

সন্তান রেখে কাজে যাওয়া মানেই অবহেলা নয়

সন্তানকে বাড়িতে রেখে অফিসে যাওয়া মানে তাকে ভালোবাসেন না—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং আপনি তার ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বনের জন্যই কাজ করছেন। একজন আর্থিকভাবে স্বাধীন মা সন্তানের কাছে শক্ত উদাহরণ হয়ে ওঠেন।

আর অপরাধবোধ নয়! কর্মরত মায়েরা দ্বিধায় না ভুগে এই কথাগুলি একবার ভেবে দেখুন
মা মানেই সবসময় অক্লান্ত—এই ধারণা ভাঙুন

অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত লাগতেই পারে। মা বলেই যে আপনি মানুষ নন, এমন নয়। নিজের জন্য কিছুটা সময় নিলে আপনি ‘খারাপ মা’ হয়ে যান না। বরং মানসিকভাবে চাঙা থাকলে সন্তানের জন্য আরও ভালো মা হতে পারবেন।

‘আদর্শ মা’ হওয়ার চাপ ঝেড়ে ফেলুন

অনেক কর্মরত মহিলা ভাবেন, তাঁরা বুঝি আদর্শ মা হতে পারছেন না। এই ভাবনাই মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। মনে রাখবেন, কেউই নিখুঁত নন। সন্তানের কাছে সবচেয়ে জরুরি মায়ের হাসিমুখ—ক্লান্ত, অবসন্ন মুখ নয়।

সব ‘প্রথম’ মুহূর্তে থাকা সম্ভব নয়

সন্তানের প্রথম হাঁটা বা প্রথম ডাক—সব মুহূর্তে উপস্থিত থাকা সবসময় সম্ভব হয় না। কয়েকটি মুহূর্ত মিস হওয়া মানেই সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাবে, এমন নয়। বরং একসঙ্গে কাটানো সময়ের মানটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বনির্ভর সন্তান গড়ার পাঠ

মা অফিসে গেলে শিশুকে ছোট থেকেই কিছুটা নিজে নিজে মানিয়ে নিতে হয়। অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচক চোখে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে এই অভ্যাসই শিশুকে ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন করে তোলে।

আর অপরাধবোধ নয়! কর্মরত মায়েরা দ্বিধায় না ভুগে এই কথাগুলি একবার ভেবে দেখুন
সহযোগিতা নিতে সংকোচ করবেন না

সব কাজ একা হাতে সামলানো বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনে পরিচারিকার সাহায্য নিন, অনলাইনে খাবার অর্ডার করুন। শরীর ও মনের ওপর অযথা চাপ দেবেন না।

নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিন

আপনারও পরিচয় আছে, স্বপ্ন আছে। শুধুমাত্র ‘মা’ পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখবেন না। নিজের লক্ষ্য ভুলে গেলে একদিন মানসিক ক্লান্তি আপনাকে গ্রাস করতে পারে।

আপনি দশভূজা নন—এটা মেনে নিন

সব কিছু নিখুঁতভাবে না পারলে নিজেকে দোষ দেবেন না। আপনি মানুষ—দেবী নন। এই সত্য মেনে নেওয়াই মানসিক স্বস্তির প্রথম ধাপ।

সময় নয়, ‘কোয়ালিটি টাইম’ গুরুত্বপূর্ণ

আপনি কত ঘণ্টা সন্তানের সঙ্গে থাকছেন, সে হিসাব সন্তান রাখে না। সে মনে রাখে—আপনি তার সঙ্গে কতটা মন দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন

সবাই প্রশংসা না করলেও নিজেকে বাহবা দিতে শিখুন। আয়নায় তাকিয়ে বলুন—“আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।” এই ছোট কথাটাই অনেক বড় শক্তি হয়ে উঠবে।

আর অপরাধবোধ নয়! কর্মরত মায়েরা দ্বিধায় না ভুগে এই কথাগুলি একবার ভেবে দেখুন
সন্তান আর কেরিয়ারের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে বহু কর্মরত মা আজও অপরাধবোধে ভোগেন। অফিসে যাওয়া মানেই কি খারাপ মা হওয়া? একদমই নয়। সময় বদলেছে, সমাজ বদলাচ্ছে। মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাতৃত্ব ও কাজ—দুটিকেই সামলাতে এই বিষয়গুলি মনে রাখা জরুরি।

 

Leave a comment