প্রধানমন্ত্রী মাছ খাওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন’! প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রধানমন্ত্রী মাছ খাওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন’! প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খাদ্যাভ্যাস আর রাজনীতি—এই তিনের মেলবন্ধন ঘিরে ফের উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় এক বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পুরনো মন্তব্য টেনে এনে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব রাজনীতি’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর—বিজেপির ‘ভয়ংকর ভবিষ্যৎ’ দেখালেন অভিষেক

ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, এখন যদি চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য মানুষকে মারধর করা হয়, তা হলে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমেয়। তাঁর প্রশ্ন, “এখন প্যাটিস বিক্রি করছে বলে মারছে, ক্ষমতায় এলে কী করবে?”

‘কে কী বিক্রি করবে, দিল্লির বাবারা ঠিক করবে?’

খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিজেপির অবস্থানকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, বাংলায় কে চাউমিন বিক্রি করবে আর কে চিকেন প্যাটিস—সেটা কি দিল্লি থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে? তাঁর বক্তব্য, বাংলার খাদ্য সংস্কৃতি নিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

মাছ-মাংস বিতর্কে মোদির মন্তব্য টেনে আক্রমণ

অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই মন্তব্যকেই বর্তমান ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাছ খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার ফলেই আজ ধর্মের নামে খাবার নিয়ে মারধর হচ্ছে।

হিন্দুত্ব রাজনীতিতে কড়া কটাক্ষ

রাম মন্দির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “রাম মন্দির হয়ে গেছে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বন্ধ! যে রাম দুর্গার পুজো করেছিলেন, সেই দুর্গার পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।” তাঁর মতে, ধর্মীয় ভক্তি ব্যক্তিগত বিষয়, তা বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ আবারও

খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় বিতর্কের পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক অবহেলার অভিযোগও ফের সামনে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, জল সরবরাহ, আবাসন প্রকল্প, একশো দিনের কাজ কিংবা গ্রামীণ রাস্তা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। অভিষেকের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিষেকের প্রশ্ন, বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে যে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কদের নির্বাচিত করেছেন, তাঁরা কেন কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলছেন না? তাঁর অভিযোগ, বাংলার স্বার্থে বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা সম্পূর্ণ নীরব।

কলকাতায় গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতির অভিযোগ তুলে বাংলাকে কেন্দ্রের বঞ্চনার কথাও ফের সামনে আনেন তিনি।

Leave a comment