গরম থেকে বাঁচতে বাড়ি-অফিসে দিনরাত এসি চালু রাখছেন? স্বস্তি মিললেও চোখের উপর পড়ছে অদৃশ্য চাপ। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশ চোখের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে তৈরি হয় একাধিক সমস্যা।
গরম বাড়তেই এসির ব্যবহার আকাশছোঁয়া
এবারের তীব্র গরমে এসির চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। বাড়ি ও অফিসে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এসি চালানো এখন সাধারণ বিষয়। বাইরে অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্রতা থাকলে অনেকেই ১৮–২০ ঘণ্টাও চালিয়ে রাখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটানা দীর্ঘ সময় এসি চালানো ঠিক নয়।
চোখের কী ক্ষতি হতে পারে?
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত Doon Medical College Hospital-এর চক্ষুবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডাঃ সুশীল ওঝার মতে, গরমকালে শুষ্ক বাতাসে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। এসির ঠান্ডা ও শুষ্ক হাওয়া এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
সম্ভাব্য উপসর্গ:
চোখে জ্বালা
লালভাব
চুলকানি
ঝাপসা দেখা
ড্রাই আই সিনড্রোমের ঝুঁকি
কতক্ষণ এসি চালানো নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের বেশি হলে: ৮–১০ ঘণ্টা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩০°–৪০° সেলসিয়াস হলে: ৬–৮ ঘণ্টাই যথেষ্ট।
তবে মাঝে মাঝে এসি বন্ধ করে ঘরে স্বাভাবিক বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখা দরকার।
হঠাৎ এসি থেকে রোদে? সানগ্লাস অবশ্যই
এসি ঘর থেকে সরাসরি তীব্র রোদে বের হলে চোখে ধাক্কা লাগে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। সস্তা বা নিম্নমানের চশমা চোখের ক্ষতি আরও বাড়াতে পারে।
স্ক্রিন টাইম কমান, চোখকে বিশ্রাম দিন
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
একটানা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকবেন না।
প্রতি ২০–৩০ মিনিট অন্তর চোখ বিশ্রাম দিন।
ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন।
প্রয়োজনে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ড্রপ ব্যবহার করুন (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
প্রচণ্ড গরমে এসি এখন প্রায় অপরিহার্য। তবে দীর্ঘক্ষণ এয়ার কন্ডিশনারের ঠান্ডা ও শুষ্ক হাওয়ায় থাকলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালা ও লালভাবের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি এসি ব্যবহার না করা এবং চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।













