আলিগড়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সকাল থেকে আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা থাকায় এবং বিরতিহীনভাবে বৃষ্টি হওয়ায় তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থেকে মানুষের স্বস্তি মিলেছে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় কম। আবহাওয়া বিভাগ দিনভর বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
বৃষ্টির কারণে শহরের সড়কগুলোতে গরমের প্রভাব কমে এসেছে এবং শীতল বাতাসে আবহাওয়া আরামদায়ক হয়েছে। তবে শহরের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মানুষের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। সকালে অফিসগামী এবং স্কুল-কলেজগামীদেরও বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী চার দিন আলিগড় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকবে। এ সময় বিরতিহীনভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বজ্রসহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটির নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকরাও উপকৃত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ধান, ভুট্টা এবং অন্যান্য খরিফ ফসলের জন্য এ ধরনের আবহাওয়া অনুকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির পরিস্থিতিতে ফসলের ক্ষতি এড়াতে জমিতে যথাযথ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো পোশাক পরা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করা এবং ভাইরাল সংক্রমণ এড়াতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জলাবদ্ধ এলাকাগুলোর ওপর নজরদারি রাখার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ত্রাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে আলিগড়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন শহর ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং গরম থেকে মানুষের স্বস্তি বজায় থাকতে পারে।










