শাহরুখ খান ও কাজলের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ আজও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোম্যান্টিক ছবি। সিনেমার প্রতিটি চরিত্রই দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কাজলের পিসি ‘কাম্মো কৌর’, অর্থাৎ অভিনেত্রী হিমানি শিবপুরী। কিন্তু ছবির গল্পের শেষভাগে আচমকাই তাঁর উপস্থিতি কমে যায়। বাস্তবে সেই সময় অভিনেত্রীর জীবনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাই এর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
DDLJ-র ‘কাম্মো কৌর’কে মনে আছে?
১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শাহরুখ-কাজলের প্রেমকাহিনির পাশাপাশি ছবির পার্শ্বচরিত্রগুলিও দর্শকদের মনে গেঁথে যায়।হিমানি শিবপুরী অভিনীত ‘কাম্মো কৌর’ ছিলেন এমনই একটি চরিত্র। ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তবে ক্লাইম্যাক্সের দিকে তাঁকে আর সেভাবে দেখা যায় না। এর পিছনে সিনেমার গল্পের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল অভিনেত্রীর বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি।
হঠাৎ স্বামীকে হারান অভিনেত্রী
এক সাক্ষাৎকারে হিমানি শিবপুরী নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। তাঁর স্বামী জ্ঞান শিবপুরী হঠাৎ বাড়ির বাথরুমে পড়ে যান। পরিস্থিতি বুঝে পরিবারের তরফে চিকিৎসককে ডাকা হয়। ওই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।কিন্তু আচমকা এমন পরিণতি মেনে নিতে পারেননি হিমানি। তিনি স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শুরু হয় ময়নাতদন্ত-সহ একাধিক আনুষ্ঠানিকতা।
একাই সামলাতে হয়েছিল কঠিন পরিস্থিতি
স্বামীর মৃত্যুর পর শুধু শোক সামলানোই নয়, একাধিক বাস্তব দায়িত্বও অভিনেত্রীর কাঁধে এসে পড়ে। হাসপাতালের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি—অনেকটাই তাঁকে নিজেকেই সামলাতে হয়েছিল।সেসময় তাঁর ভাই তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু ভাই বয়সে ছোট হওয়ায় এবং মুম্বই শহরের পরিবেশের সঙ্গে খুব একটা পরিচিত না থাকায় পরিস্থিতির বড় অংশই হিমানিকেই সামলাতে হয়।এই আকস্মিক বিপর্যয় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে যেমন নাড়িয়ে দিয়েছিল, তেমনই কাজের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে।
থানায় গিয়ে আরও এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতার জন্য ভাইকে সঙ্গে নিয়ে থানাতেও যেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। স্বামীর মৃত্যুর শোকের মধ্যেই সেখানে ঘটে যায় আরও একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা।এক পুলিশ আধিকারিক হিমানিকে দেখে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। প্রথমে বিষয়টি অভিনেত্রীর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তখন তিনি সদ্য স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশকর্মী ছিলেন অভিনেত্রীর ভক্ত
পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ওই পুলিশ আধিকারিক আসলে হিমানির অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন। তিনি অভিনেত্রীর পুরনো টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হামরাহি’-তে অভিনীত ‘দেবকি ভাউজাই’ চরিত্রটির প্রশংসা করতে শুরু করেন।স্বাভাবিকভাবেই সেই মুহূর্তে এমন প্রশংসা শোনার মানসিক অবস্থায় ছিলেন না হিমানি। স্বামীকে হারানোর শোকের মধ্যে অভিনয়ের প্রশংসা তাঁর কাছে তখন বেমানান বলে মনে হয়েছিল। ফলে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধও হয়ে উঠেছিলেন।
সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই স্মৃতি
হিমানি জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁর ভাই তাঁকে শান্ত করেছিলেন। ঘটনাটি তখন যতটা বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক মনে হয়েছিল, সময় পেরিয়ে আজ সেটিই তাঁর কাছে এক অদ্ভুত স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমানে অতীতের সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে তাঁর হাসিও পায়। তবে সেই সময় পরিস্থিতি যে তাঁর জন্য কতটা কঠিন ছিল, তা অভিনেত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।
কেন DDLJ থেকে ‘কাম্মো’কে কম দেখা গেল?
‘DDLJ’-এর সময় হিমানির ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক বিপর্যয় তাঁর কাজের উপর প্রভাব ফেলেছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর শোক, পারিবারিক দায়িত্ব এবং একাধিক আনুষ্ঠানিকতার কারণে স্বাভাবিক ছন্দে কাজে ফিরতে পারেননি তিনি।তাই ছবির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তী অংশে তাঁর উপস্থিতি কমে যাওয়ার পিছনে ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ের প্রভাব ছিল।
‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির জনপ্রিয় চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাজলের পিসি ‘কাম্মো কৌর’। চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হিমানি শিবপুরী। কিন্তু ছবির শেষদিকে তাঁকে আর দেখা যায়নি। এর নেপথ্যে ছিল অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এক ভয়াবহ ঘটনা—হঠাৎ স্বামীর মৃত্যু।









