হেমা মালিনীর জন্মদিনে তাঁর অভিনয়, নৃত্য, পরিচালনা ও রাজনৈতিক জীবনের ১০টি তথ্য

হেমা মালিনীর চলচ্চিত্রজীবন, তামিল সিনেমায় অভিষেক, ভরতনাট্যম, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে জুটি, চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে ১০টি উল্লেখযোগ্য তথ্য জানুন।

হেমা মালিনী হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বিশিষ্ট অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্য, চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং রাজনীতিতেও তিনি নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে একাধিক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। দর্শকদের কাছে ‘ড্রিম গার্ল’ নামে পরিচিত এই অভিনেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িত ১০টি উল্লেখযোগ্য তথ্য তুলে ধরা হল।

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয়তা অর্জনের আগে তামিল সিনেমায় কাজ করেছিলেন হেমা মালিনী। ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল ছবি ‘ইধু সাথিয়াম’-এ তিনি প্রাথমিক পর্যায়ের একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকের সংগ্রাম পেরিয়ে তিনি সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

১৯৭০-এর দশক এবং ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে হেমা মালিনী হিন্দি চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’ এবং ‘ড্রিম গার্ল’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বজায় ছিল।

হেমা মালিনী কাপুর পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্মের অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দায় কাজ করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাজ কাপুর, শাম্মি কাপুর, শশী কাপুর, রণধীর কাপুর এবং ঋষি কাপুর। তাঁর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রজীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।

হেমা মালিনী একজন প্রশিক্ষিত ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী। পাশাপাশি তিনি কুচিপুড়ি এবং মোহিনীয়াট্টমের মতো ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলীতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যকে উৎসাহিত করতে তিনি ‘নাট্য বিহার কলাকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালে অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের সময় রামায়ণভিত্তিক একটি নৃত্যনাট্যে তিনি সীতার ভূমিকায় অভিনয় করেন।

হেমা মালিনীর জন্মদিনে তাঁর অভিনয়, নৃত্য, পরিচালনা ও রাজনৈতিক জীবনের ১০টি তথ্য

অভিনয় ও রাজনীতির পাশাপাশি পশুকল্যাণের বিষয়েও হেমা মালিনী সক্রিয়। তিনি নিরামিষাশী এবং পশুদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকেন। ২০১১ সালে পশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং তাদের সুরক্ষায় উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে পেটা ইন্ডিয়া তাঁকে ‘পার্সন অফ দ্য ইয়ার’ সম্মান প্রদান করে।

বিনোদন জগতে সাফল্যের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন হেমা মালিনী। ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। চলচ্চিত্রের বাইরেও তিনি নিজের পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

হেমা মালিনী এবং ধর্মেন্দ্র হিন্দি সিনেমার অন্যতম আলোচিত জুটি হিসেবে পরিচিত। তাঁরা একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। ‘শোলে’ ছবিতে বসন্তী ও বীরুর চরিত্র দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। পর্দায় তাঁদের জুটি প্রশংসিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ড্রিম গার্ল’ ছবির মাধ্যমে হেমা মালিনীর সঙ্গে এই পরিচিতি বিশেষভাবে যুক্ত হয়। তাঁর সৌন্দর্য, অভিনয় এবং পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ‘ড্রিম গার্ল’ নামটিকে জনপ্রিয় করে তোলে। সময়ের সঙ্গে এই উপাধি তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের স্থায়ী পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং টেলিভিশনেও কাজ করেছেন হেমা মালিনী। তিনি দূরদর্শনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রঙ্গোলি’-র সঞ্চালক ছিলেন। এ ছাড়া ‘তেরহ পন্নে’, ‘রানি লক্ষ্মীবাই’, ‘ভারতী’ এবং ‘নূপুর’-এর মতো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রযোজনা বা পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিল আশনা হ্যায়’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন হেমা মালিনী। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শাহরুখ খান এবং দিব্যা ভারতী। শাহরুখ খান ‘দিওয়ানা’ ছবির আগে ‘দিল আশনা হ্যায়’-এ কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে ‘দিওয়ানা’ আগে মুক্তি পায় এবং সেই ছবির মাধ্যমেই হিন্দি সিনেমায় তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। ফলে ‘দিল আশনা হ্যায়’ শাহরুখ খানের প্রাথমিক চলচ্চিত্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এরপর ২০১১ সালে হেমা মালিনী ‘টেল মি ও খুদা’ ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন। ছবিতে অভিনয় করেন ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্না, ঋষি কাপুর, এষা দেওল এবং অর্জন বাজওয়া। সলমন খান ছবিটিতে অতিথিশিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a comment