আদানি গ্রুপ ভারতে ৪০০ বিমানবন্দরের মেগা সম্প্রসারণ করবে। ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগে নভি মুম্বাই, গুয়াহাটি এবং অন্যান্য বিমানবন্দরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। কোম্পানিটি ২০০ মিলিয়ন যাত্রী পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
আদানি গ্রুপ: ভারতে বিমান ভ্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং এই বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ও আদানি গ্রুপ বড় মাপের বিমানবন্দর পরিকাঠামো তৈরি করতে চলেছে। আদানি গ্রুপ আগামী পাঁচ বছরে তাদের সমস্ত বিমানবন্দরের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চাইছে। এই বিনিয়োগের পর আদানি গ্রুপের বিমানবন্দরগুলি প্রতি বছর ২০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ কোটি যাত্রী পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এই পদক্ষেপটি এই কারণেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারতে বিমান ভ্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং কোম্পানিটি তাদের বিমানবন্দর ব্যবসাকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
নভি মুম্বাই বিমানবন্দরে বড় পরিবর্তন
আদানি গ্রুপ নভি মুম্বাই বিমানবন্দরে বড় আকারের কাজ করছে। এই বিমানবন্দরটি ২৫শে ডিসেম্বর চালু হতে চলেছে। এখানে নতুন যাত্রী টার্মিনাল তৈরি করা হবে, ট্যাক্সিওয়ের সম্প্রসারণ করা হবে এবং নতুন রানওয়ে প্রস্তুত করা হবে যাতে আরও বেশি সংখ্যক ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনা করা যায়। এই আপগ্রেডের ফলে নভি মুম্বাই বিমানবন্দরের ক্ষমতা এবং সুবিধাগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অন্যান্য শহরের বিমানবন্দরের আপগ্রেডেশন
আদানি গ্রুপ আহমেদাবাদ, জয়পুর, তিরুবনন্তপুরম, লখনউ এবং গুয়াহাটি বিমানবন্দরেরও ক্ষমতা বাড়াবে। এই বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা, আরও বেশি জায়গা এবং মসৃণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নতি করা হবে। এই উন্নতিগুলির ফলে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে এবং বিমানবন্দরের দৈনন্দিন পরিচালনার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানুন
এই সম্পূর্ণ সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। এর প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করা হবে, যা আগামী পাঁচ বছরে নেওয়া হবে। বাকি অর্থ কোম্পানি নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করবে, যাকে ইক্যুইটি বলা হয়। এইভাবে বড় আকারের কাঠামোগত উন্নতি এবং সম্প্রসারণের খরচ মেটানো হবে।
বিমান চলাচলে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
ভারতে বিমান ভ্রমণ আগামী বছরগুলিতে দ্রুত গতিতে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রতি বছর ৩০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ কোটি মানুষ বিমানে যাত্রা করবে। আদানি গ্রুপ তাদের ক্ষমতা ২০০ মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়িয়ে এই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে ভারতীয় বিমান চলাচল বাজারে কোম্পানির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বিমানবন্দর ইউনিটের আইপিও (IPO) আরও আকর্ষণীয় হবে।
নভি মুম্বাই এবং গুয়াহাটি বিমানবন্দর পৃথকভাবে গণনা করা হয়েছে
এই পরিকল্পনায় নভি মুম্বাই বিমানবন্দরের ২০ মিলিয়ন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা এবং গুয়াহাটি বিমানবন্দরের ১১ মিলিয়ন ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত নয়। এর অর্থ হল এই দুটি বিমানবন্দর আগে থেকেই আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে এবং যে নতুন সম্প্রসারণ হচ্ছে তা এদের বাইরে।
সরকারি বিমানবন্দরের বেসরকারীকরণ
আদানি গ্রুপ যে বিমানবন্দরগুলি আপগ্রেড করছে, সেই সমস্ত বিমানবন্দর ২০২০ সালে সরকার কর্তৃক বেসরকারি সংস্থাগুলিকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ভারতে বিমানবন্দরের বেসরকারীকরণ ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল, যখন দিল্লি এবং মুম্বাই বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছিল। পরে আদানি গ্রুপ মুম্বাই বিমানবন্দরে জিভিকে-এর শেয়ারও কিনে নেয়।
এখন সরকার আবারও আরও ১১টি বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এতে লোকসানে চলা বিমানবন্দরগুলিকে লাভজনক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস এবং জিএমআর এয়ারপোর্টকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।











