বাংলা কীর্তনের জনপ্রিয় মুখ অদিতি মুন্সির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়, সম্পর্ক এবং বিয়ের গল্প নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। যদিও তাঁদের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ দেখাশোনা করে হওয়া বিয়ে, তবুও বিয়ের আগে অদিতির মন জয় করতে নেপথ্যে কম চেষ্টা করতে হয়নি দেবরাজকে।
গানের মঞ্চ থেকেই শুরু পরিচয়ের পথ
জি বাংলার ‘সা রে গা মা পা’-এর মঞ্চে কীর্তন পরিবেশন করে বিশেষ পরিচিতি পান অদিতি মুন্সি। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী না হলেও তাঁর গায়কী খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মন জয় করে নেয়। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সরকারি মঞ্চে নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি। সেই সূত্রেই দেবরাজ চক্রবর্তীর এলাকার একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁর যাতায়াত বাড়ে।
উপহারের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভালোবাসার বার্তা
অদিতি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফুলের তোড়া, ফটোফ্রেম, মিষ্টি ও উত্তরীয় উপহার পেতেন। শুধু অনুষ্ঠানেই নয়, কখনও কখনও তাঁর বাড়িতেও ফুল পৌঁছে যেত। প্রথমদিকে বিষয়টিকে সাধারণ সৌজন্য বলেই মনে করেছিলেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, এই যত্নের নেপথ্যে ছিল দেবরাজ চক্রবর্তীর আন্তরিক অনুভূতি।
প্রেম নয়, পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের প্রস্তাব
দেবরাজ এবং অদিতি—দু'জনেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব না দিয়ে দেবরাজ প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। অদিতির কথায়, তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরিবারের আশীর্বাদ, যা একটি আদর্শ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের উদাহরণ।
গানের পরিবার নয়, তবুও সংগীতই হয়ে ওঠে জীবনের পরিচয়
অদিতি মুন্সির পরিবারে কেউ পেশাগতভাবে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁর বাবা ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের গান শুনতে শুনতেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ নেন এবং সংগীত নিয়েই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেই পথ ধরেই আজ তিনি বাংলা কীর্তন জগতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী।
বর্তমান সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে এই দম্পতি
বর্তমানে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী এক সন্তানের বাবা-মা। তবে সম্প্রতি দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সম্পত্তি ও জমি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতিতেও অদিতি প্রকাশ্যে স্বামীর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলমান এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পর্কের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রেমের প্রকাশ নয়, বরং সম্মান, যত্ন আর পরিবারের সম্মতিতেই গড়ে ওঠে তাঁদের সম্পর্ক। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার পাঠানো থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পরিবারের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব—এই গল্প আজও অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।









