অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কিনবেন? বাড়িতে কত সোনা রাখা যায় জানেন! আয়কর নিয়ম জানলে অবাক হবেন

অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনার আগে জেনে নিন বাড়িতে কত সোনা রাখা আইনসম্মত। আয়কর দপ্তরের নিয়ম, সীমা ও কর সংক্রান্ত সব তথ্য এখানে।

ভারতে সোনা শুধু অলংকার নয়, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশেষ করে অক্ষয় তৃতীয়া-র মতো শুভ দিনে সোনা কেনা অত্যন্ত মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। তবে অনেকেই জানেন না—বাড়িতে কতটা সোনা রাখা যায় এবং সেই বিষয়ে আয়কর দপ্তরের নিয়ম কী।

সোনা রাখার নির্দিষ্ট সীমা আছে কি?

ভারতে বাড়িতে সোনা রাখার কোনও নির্দিষ্ট আইনি সীমা নেই। অর্থাৎ আপনি যত খুশি সোনা রাখতে পারেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—সোনার উৎসের বৈধ প্রমাণ থাকতে হবে। যেমন কেনার রসিদ, উপহার বা উত্তরাধিকারের নথি।

কাগজপত্র না থাকলে কতটা সোনা ‘নিরাপদ’?

আয়কর দপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী, কাগজপত্র ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা পর্যন্ত সাধারণত জব্দ করা হয় না—

বিবাহিত মহিলা: ৫০০ গ্রাম

অবিবাহিত মহিলা: ২৫০ গ্রাম

পুরুষ: ১০০ গ্রাম

এই সীমা মূলত তদন্তের সময় ‘স্বাভাবিক’ হিসেবেই ধরা হয়।

বেশি সোনা রাখলে কী হবে?

যদি আপনার কাছে এই সীমার বেশি সোনা থাকে এবং তার বৈধ নথি থাকে, তাহলে কোনও সমস্যা নেই। তবে কাগজপত্র না থাকলে আয়কর বিভাগ তদন্ত করতে পারে এবং সেই সোনা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সোনা বিক্রি করলে কর কত?

সোনা বিক্রি করলেও কর দিতে হয়। Central Board of Direct Taxes (CBDT)-এর নিয়ম অনুযায়ী—

৩ বছরের মধ্যে বিক্রি করলে: স্বল্পমেয়াদী মূলধন লাভ কর

৩ বছরের পরে বিক্রি করলে: দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভ কর

অর্থাৎ সোনা শুধু কেনা নয়, বিক্রির ক্ষেত্রেও করের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়ম জানা?

অনেকেই বিয়ে, উৎসব বা ভবিষ্যতের জন্য বাড়িতে সোনা জমিয়ে রাখেন। কিন্তু নিয়ম না জানলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই সোনা কেনার সময় সব নথি সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

অক্ষয় তৃতীয়ার আগে সোনা কেনার হিড়িক পড়েছে। কিন্তু বাড়িতে কতটা সোনা রাখা আইনসম্মত? Income Tax Department-এর নিয়ম অনুযায়ী সোনার নির্দিষ্ট সীমা না থাকলেও উৎস প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

Leave a comment