লোকসভা ভোটের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন চরমে, তখন অসমের মাটি থেকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বড় বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “অনুপ্রবেশ রুখবই—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।” একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
অসম থেকেই কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। তাঁর দাবি, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা প্রশ্নে কোনও রকম আপস করবে না কেন্দ্র সরকার। এই প্রসঙ্গেই কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বছরের পর বছর এই সমস্যাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে বিরোধী দল।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায়
অমিত শাহের অভিযোগ, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন অনুপ্রবেশ রুখতে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে সীমান্ত সমস্যা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই কারণেই আজও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে অনুপ্রবেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে এবং আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ শুধুমাত্র একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি সরাসরি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
একের পর এক রাজনৈতিক তোপ
শুধু অনুপ্রবেশ নয়, উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অগ্রগতির প্রশ্নেও কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকারের আমলে অসম-সহ উত্তর-পূর্বে উন্নয়নের গতি বেড়েছে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ভোটের আগে বার্তা স্পষ্ট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষা তাদের অন্যতম প্রধান ইস্যু। অসমের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যে এই বক্তব্য যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
অসম সফরে গিয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস নয়। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি।












