বর্ষা শুরু হতেই ফের উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে। জোয়ারের চাপে প্রতিনিয়ত ক্ষয় হচ্ছে সমুদ্র বাঁধ, কোথাও আবার আমফান ও ইয়াসের ধাক্কায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ এখনও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল ঘুরে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী। আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সংস্কারের জন্য নতুন অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
উপকূল রক্ষায় মাঠে নামল সেচ দফতর
সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন জেলার পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নদী ও সমুদ্র বাঁধের ভাঙন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বহু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বছরের অন্যান্য সময়েও জোয়ারের চাপে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে সেচ দফতর।
উদয়পুর থেকে তাজপুর পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শন
সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের নিয়ে উদয়পুর থেকে তাজপুর পর্যন্ত সমুদ্র বাঁধের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। কোথায় বাঁধ সবচেয়ে বেশি দুর্বল, কোথায় নতুন করে ভাঙন তৈরি হয়েছে এবং কোথায় আমফান ও ইয়াসের ক্ষতি এখনও রয়ে গিয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হয়। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে শুরু হবে সংস্কার
পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত অংশের তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। বর্ষার মধ্যেই যাতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
উদয়পুরে ভাঙন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ
পূর্ব মেদিনীপুরের উদয়পুর উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের সমস্যায় ভুগছে। জোয়ারের প্রবল চাপে সমুদ্র বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এবার মিলবে স্থায়ী সমাধান
দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের সমস্যায় জর্জরিত উপকূলবাসীরা সেচ দফতরের এই উদ্যোগে আশাবাদী। স্থানীয়দের মতে, কার্যকরভাবে সমুদ্র বাঁধ মেরামত করা গেলে একদিকে যেমন বসতি ও কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে উদয়পুর-তাজপুর উপকূলে পর্যটকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। ফলে এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা—দু'দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
আমফান ও ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক নদী ও সমুদ্র বাঁধ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উদয়পুর থেকে তাজপুর পর্যন্ত উপকূল পরিদর্শন করলেন সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সংস্কার শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে সেচ দফতর।








