জলপাইগুড়ি: সরকারি প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর সাধারণত উপভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। কিন্তু জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় সেই আনন্দ যেন রীতিমতো উৎসবে পরিণত হল। অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাওয়ার পর দল বেঁধে রাস্তায় নামলেন মহিলারা। ধামসা-মাদলের ছন্দে নাচ-গান আর বর্ণময় মিছিল ঘিরে তৈরি হল জমজমাট পরিবেশ।
৩ হাজার টাকা পেতেই রাস্তায় আনন্দ মিছিল
বুধবার নাগরাকাটা ব্লকের অঙ্গরাভাষা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই বিশেষ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার আনন্দে বহু মহিলা তাতে অংশ নেন।মিছিল শুরু হতেই ডুয়ার্সের পরিচিত লোকবাদ্য ধামসা ও মাদলের আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তালে তালে নাচ এবং গানে অংশ নেন মহিলারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাধারণ মিছিল বদলে যায় রঙিন আনন্দ উৎসবে।
সংসারের খরচে মিলছে আর্থিক স্বস্তি
অংশগ্রহণকারী মহিলাদের বক্তব্য, সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ তাঁদের কাজে আসছে। বিশেষ করে বাজার খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, ওষুধপত্র এবং অন্যান্য ছোটখাটো পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে মাসিক আর্থিক সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।এক গৃহবধূর কথায়, আগে দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের উপার্জনকারী পুরুষ সদস্যের কাছে টাকা চাইতে হত। তাঁর দাবি, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ধামসা-মাদলের তালে জমজমাট আয়োজন
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডুয়ার্সের লোকসংস্কৃতির ছাপও স্পষ্ট ছিল। ধামসা-মাদলের তালে মহিলাদের নাচ ও গান মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।ফলে সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতিও মিশে যায় এই আয়োজনে। সেই ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ৩ হাজার টাকা?
গ্রামীণ ও প্রান্তিক পরিবারের ক্ষেত্রে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দৈনন্দিন সংসার চালানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপভোক্তাদের দাবি, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থ হাতে আসায় ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর জন্য তাঁদের অন্যের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমছে।নাগরাকাটার এই মিছিল তাই শুধু আনন্দ উদযাপন নয়, উপভোক্তাদের কাছে আর্থিক স্বস্তির প্রকাশ হিসেবেও সামনে এসেছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তেই জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় আনন্দে মেতে উঠলেন উপভোক্তারা। ধামসা-মাদলের তালে নাচ-গান, তার সঙ্গে বর্ণাঢ্য মিছিল—সব মিলিয়ে বুধবার এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। উপভোক্তাদের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে তাঁদের অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে।











