নদিয়া: ঝুলনযাত্রা মানেই রাধা-কৃষ্ণের দোল, ভক্তি আর বাংলার পুরনো ঐতিহ্য। তবে কৃষ্ণনগরের গড়াই বাড়ির এবারের ঝুলন উৎসবে সেই চেনা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক অভিনব শিল্পভাবনা। অযোধ্যার রাম মন্দির, সরযূ নদী এবং রামায়ণের নানা কাহিনি ক্ষুদ্র মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরে সাজানো হয়েছে গোটা প্রদর্শনী। ফলে ঝুলন উৎসব দেখতে এসে দর্শনার্থীরা পাচ্ছেন ইতিহাস, শিল্প ও আধ্যাত্মিকতার একসঙ্গে স্বাদ।
ঝুলন উৎসবে অযোধ্যার আবহ
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কলেজ স্ট্রিট এলাকার সিদ্ধেশ্বরীর মোড়ে অবস্থিত গড়াই বাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই তার ঐতিহ্যবাহী ঝুলন উৎসবের জন্য পরিচিত। এবার সেই উৎসবেই বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অযোধ্যার থিম।প্রদর্শনীতে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। মন্দিরের চারপাশে বাগান, লাল মাটির রাস্তা এবং আলো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি মনোরম পরিবেশ।
সরযূ নদীর তীরে যেন ছোট্ট অযোধ্যা
রাম মন্দিরের পাশেই তৈরি হয়েছে সরযূ নদীর তীরবর্তী অযোধ্যার দৃশ্য। নীল জলের নদীতে নৌকা, মাঝি এবং আশপাশের পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে চোখধাঁধানো একটি ক্ষুদ্র জগত।ফলে প্রদর্শনীতে ঢুকলেই দর্শকদের মনে হবে, যেন বাংলার কৃষ্ণনগরেই তৈরি হয়েছে ছোট্ট অযোধ্যা।
মাটির মডেলে ফুটে উঠেছে রামায়ণের কাহিনি
শুধু রাম মন্দির বা সরযূ নদী নয়, রামায়ণের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে মাটির পুতুল ও ক্ষুদ্র মডেলের মাধ্যমে।
এর মধ্যে রয়েছে—
শিবের হরধনু ভঙ্গ
রাজা জনকের সভায় রাম-সীতার বিবাহ
রাম অভিষেকের প্রস্তুতি নিয়ে রাজা দশরথের রাজসভা
মহর্ষি বিশ্বামিত্রের যজ্ঞে তাড়কা বধ
প্রতিটি দৃশ্যের পাশে রাখা হয়েছে পরিচয়মূলক নামফলক। ফলে দর্শনার্থীরা দৃশ্যগুলি দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাহিনিও সহজে বুঝতে পারবেন।
বাদ যায়নি ঝুলনের চিরাচরিত রীতি
অযোধ্যা ও রামায়ণের থিম থাকলেও ঝুলনযাত্রার মূল ঐতিহ্যকে একেবারেই বাদ দেওয়া হয়নি। প্রদর্শনীর একপাশে সাদা কাঠের সুন্দর ঝুলনায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ।অর্থাৎ, একদিকে রামায়ণের নানা কাহিনি ও অযোধ্যার শিল্পকর্ম, অন্যদিকে রাধা-কৃষ্ণের ঐতিহ্যবাহী ঝুলন—দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে এবারের বিশেষ আয়োজন।
শিল্পীদের নিখুঁত কারুকাজ
গোটা প্রদর্শনীর রূপায়ণে যুক্ত রয়েছেন অরিজিৎ গড়াই, রাহুল বিশ্বাস, বিজয় মণ্ডল এবং সৌরভ পাল। ক্ষুদ্র মডেলের প্রতিটি অংশে তাঁদের সূক্ষ্ম কারুকাজ নজর কাড়ছে।এর সঙ্গে প্রদর্শনী কক্ষে সারাক্ষণ বাজছে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মহামন্ত্র সংকীর্তন। ফলে শিল্পকর্ম দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা পাচ্ছেন এক শান্ত ও ভক্তিময় পরিবেশও।
৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখার সুযোগ
গড়াই বাড়ির এই বিশেষ ঝুলন উৎসব আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য খোলা থাকবে। তাই সপ্তাহান্তে কৃষ্ণনগর ঘুরতে গেলে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি আপনার ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন।
কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী গড়াই বাড়ির ঝুলন উৎসব এ বছর পেয়েছে নতুন মাত্রা। রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহের পাশাপাশি এখানে তৈরি করা হয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দির ও সরযূ নদী-সহ গোটা নগরীর ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। রামায়ণের বিভিন্ন ঘটনাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁত মাটির মডেলে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে এই বিশেষ আয়োজন।











