ঝাড়খণ্ড সরকারের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের পেনশন সংক্রান্ত কাজের নিষ্পত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় পেনশন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি ই-পেনশন পোর্টালের মাধ্যমে করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য সরকারি কর্মীদের পেনশন সংক্রান্ত মামলা সময়মতো নিষ্পত্তি করা। বর্তমানে কাগজপত্র, যাচাই, অনুমোদন এবং বিভিন্ন স্তরে ফাইল চলাচলের কারণে পেনশন সংক্রান্ত কাজে সময় লাগে। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
ঝাড়খণ্ডের অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই পেনশন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার জন্য ই-পেনশন পোর্টাল পরিচালনা করছে। সরকারি পোর্টালে কর্মীদের অনলাইনে পেনশন পেপার প্রস্তুতের সুবিধা রয়েছে। কর্মীরা GPF/CPS নম্বর এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে Employee Portal-এ লগইন করে Pension Papers বিকল্পের মাধ্যমে পেনশন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
১ সেপ্টেম্বর থেকে পেনশন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দফতর ও অফিসগুলিকে নির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনের ফাইল এগিয়ে নিতে হবে। এর ফলে ফাইলের অবস্থান ট্র্যাক করা এবং কোন স্তরে মামলা মুলতুবি রয়েছে তা জানা সহজ হবে।
সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগ শুধু পেনশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বেতন, ভ্রমণ ভাতা অর্থাৎ TA, আকস্মিক বিল এবং অনুমোদিত অ্যাডভান্সের অর্থপ্রদানে ই-সাইন ও ডিজিটাল সিগনেচার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। IFMS-এর মাধ্যমে ই-ভাউচার তৈরির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
এর ফলে সরকারি অফিসের আর্থিক কাজকর্মে কাগজের বিল ও ফাইলের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট নিকাশি ও ব্যয়ন পদাধিকারী অর্থাৎ DDO, IFMS পোর্টালে অনলাইনে ই-ভাউচার তৈরি করবেন। এরপর ডিজিটাল যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পেনশন সংক্রান্ত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী উভয়েই সুবিধা পেতে পারেন। পেনশন অনুমোদন, নথি যাচাই এবং অর্থপ্রদানের প্রক্রিয়া অনলাইনে হলে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ফাইল পাঠাতে যে সময় লাগে তা কমানো সম্ভব। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন শুরু হওয়া বা সংশোধন সংক্রান্ত মামলায় অপেক্ষার সময় কমতে পারে।
ঝাড়খণ্ড অর্থ দফতরের সরকারি রেকর্ডেও পেনশন ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ চলার তথ্য রয়েছে। ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দফতর রাজ্য কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজের ডিজিটালকরণের তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে ৪৬.৮৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আদেশ জারি করেছে। দফতরের রেকর্ডে পেনশন সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রক্রিয়া নিয়ে আরও কয়েকটি আদেশও রয়েছে।
কোনও সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর যোগ্য পরিবারের সদস্যকে পারিবারিক পেনশন চালু করার ক্ষেত্রেও নথি ও যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত মামলাও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থ দফতর IFMS-কে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে। দফতরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, IFMS-এর বিভিন্ন মডিউল PMU সেল NIC Finance দলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় পর্যবেক্ষণ করছে। এর উদ্দেশ্য একীভূত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক কাজকর্ম পরিচালনা করা।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় মামলার বিভিন্ন ধাপ অনলাইনে নথিভুক্ত করা যায়। এর ফলে কর্মকর্তাদের জন্য মুলতুবি মামলাগুলির নজরদারি করা সহজ হবে এবং পেনশন সংক্রান্ত মামলা সময়মতো নিষ্পত্তির দায়িত্ব নির্ধারণেও সহায়তা করতে পারে।
অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর কর্মীদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় রেকর্ড, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য নথি জমা দিতে হবে। নথিতে ঘাটতি বা তথ্যের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি থাকলে ডিজিটাল প্রক্রিয়াতেও মামলা আটকে যেতে পারে। তাই অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মীদের চাকরির রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই ঠিকঠাক রাখার প্রয়োজন হবে।
ঝাড়খণ্ডের ই-পেনশন পোর্টালে পেনশনভোগীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। পোর্টালে পেনশন ও পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত আবেদন, ইউজার ম্যানুয়াল এবং অন্যান্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। পেনশন সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে কর্মকর্তাদেরও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনলাইনে পেনশন মামলা এগিয়ে নিতে হবে। কোনও স্তরে নথি যাচাই, অনুমোদন বা ভেরিফিকেশন মুলতুবি থাকলে তার প্রভাব ডিজিটাল সিস্টেমে দেখা যাবে। এর ফলে প্রশাসনিক স্তরে পেনশন সংক্রান্ত মামলার নজরদারি আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।
ঝাড়খণ্ড অর্থ দফতর IFMS-এ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন এবং অনলাইন PAN ভেরিফিকেশনের মতো পরিষেবা যুক্ত করার দিকেও পদক্ষেপ নিয়েছে।
ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থার একটি উদ্দেশ্য রেকর্ড নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা। দীর্ঘদিন কাগজের রেকর্ড রাখলে নথি নষ্ট হওয়া, ফাইল হারিয়ে যাওয়া বা পুরনো রেকর্ড খুঁজে পেতে সমস্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ডিজিটাল রেকর্ড থাকলে ভবিষ্যতে পুরনো পেনশন মামলার তথ্য বের করা সহজ হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে সরকারি কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়াও প্রয়োজন হবে। যেসব অফিসে এতদিন পেনশন সংক্রান্ত কাজ মূলত কাগজের মাধ্যমে হয়েছে, সেখানে কর্মীদের পোর্টাল, ডিজিটাল সিগনেচার এবং ই-সাইনের প্রক্রিয়া জানতে হবে। সরকার ইউজার ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে সহায়তা হতে পারে।
ঝাড়খণ্ডে ই-পেনশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নতুন নয়। রাজ্যের অর্থ দফতরের ই-পেনশন পোর্টাল আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং সেখানে পেনশন আবেদন ও অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে মামলার নিষ্পত্তিকে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ফলে পোর্টালটির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অবসর নিতে চলা সরকারি কর্মীরাও সময়মতো পেনশন পেপারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। কর্মীরা পোর্টালে লগইন করে পেনশন পেপার প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
নতুন ব্যবস্থায় পেনশন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি ই-পেনশন পোর্টালের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল যাচাই ও আর্থিক অর্থপ্রদানের অনলাইন ব্যবস্থা সরকারি কাজকর্মকে কাগজমুক্ত করার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।











