২৬ বছরের নববিবাহিতা ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে গাছে আটকে গেলেন, ফায়ার ব্রিগেডের উদ্ধার অভিযান

মুম্বাইয়ের ভান্ডুপ পশ্চিমে ২৬ বছরের নববিবাহিতা প্রতীক্ষা হিভরালে ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে গাছে আটকে পড়েন। ফায়ার ব্রিগেড প্রায় ২০ ফুট উচ্চতা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সায়ন হাসপাতালে নিয়ে যায়; তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বুধবার সকালে মুম্বাইয়ের ভান্ডুপ পশ্চিমের তুলশেতপাড়া এলাকার সানশাইন কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে ২৬ বছর বয়সি নববিবাহিতা প্রতীক্ষা হিভরালে একটি ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দেন। মাটিতে পড়ার আগে তিনি নিচে থাকা একটি গাছের ডালে আটকে যান এবং প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফেঁসে থাকেন। মুম্বাই ফায়ার ব্রিগেডের দল তাঁকে উদ্ধার করে সায়ন হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সকাল প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতীক্ষা হিভরালে ভবনের ১০ তলার একটি জানালা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

নিচে গাছ থাকায় তিনি সরাসরি মাটিতে পড়েননি। পড়ার সময় তাঁর শরীর গাছের ডালে আটকে যায়। এতে তিনি সরাসরি মাটিতে পড়া থেকে রক্ষা পেলেও গাছের একটি মোটা ডাল তাঁর পায়ে আটকে যায় এবং তিনি প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় ফেঁসে থাকেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর আশপাশের লোকজন পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডকে জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার ব্রিগেডের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল আহত মহিলাকে নিরাপদে নিচে নামানো। তাঁর পায়ে গাছের মোটা ডাল আটকে থাকায় তাঁকে সরাসরি নিচে নামানো সম্ভব ছিল না।

দমকলকর্মীরা প্রথমে অ্যাঙ্গাস ল্যাডারের সাহায্যে তাঁর কাছে পৌঁছান। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ডালটি সাবধানে কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উদ্ধারকারী দল ইলেকট্রিক করাতের সাহায্যে ডালটি কেটে তাঁকে অতিরিক্ত ক্ষতি না করে বের করে আনে।

এরপর দড়ি ও স্ট্রেচারের সাহায্যে তাঁকে ধীরে ধীরে নিচে নামানো হয়। আহত অবস্থায় তিনি গাছের ডালে আটকে থাকায় পুরো উদ্ধার অভিযান সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়।

আহত মহিলার পরিচয় ২৬ বছর বয়সি প্রতীক্ষা হিভরালে হিসেবে জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

প্রতীক্ষা কেন ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ জানার জন্য তদন্ত করতে পারেন। মহিলার মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ঘটনার আগে তাঁর কার্যকলাপ সম্পর্কিত তথ্যও তদন্তের অংশ হতে পারে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মুম্বাই ফায়ার ব্রিগেডের দল ল্যাডারের মাধ্যমে মহিলার কাছে পৌঁছায়। এরপর গাছের ডাল কাটার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ডাল কাটার সময় তার ওজন বা আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে যাতে মহিলার আরও ক্ষতি না হয়, সেদিকে সতর্কতা নেওয়া হয়।

ডাল সরানোর পর মহিলাকে নিরাপদে স্ট্রেচারে রাখা হয় এবং দড়ির সাহায্যে নিচে নামানো হয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উদ্ধারের পর প্রতীক্ষা হিভরালেকে চিকিৎসার জন্য সায়ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁর আঘাতের চিকিৎসা করছেন এবং তাঁর অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

মহিলার গুরুতর আঘাতের কারণে পরবর্তী চিকিৎসা প্রতিবেদন থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। পরিবার ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিস্তারিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাপ্ত তথ্যে এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ সামনে আসেনি। পুলিশ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার আগে মহিলার পরিস্থিতি এবং সেই সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করতে পারে।

সোসাইটির সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যও তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তদন্তের ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

নিচে থাকা গাছের কারণে মহিলা সরাসরি মাটিতে পড়েননি। পড়ার সময় গাছের ডালে আটকে যাওয়ার পরও তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় ফেঁসে ছিলেন।

ফায়ার ব্রিগেডের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ল্যাডার, ইলেকট্রিক করাত, দড়ি ও স্ট্রেচারের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোসাইটি ও আশপাশের এলাকায় লোকজন জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা উদ্ধার অভিযান দেখেন। মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও তাঁর অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।

বর্তমানে প্রতীক্ষা হিভরালের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের পরই পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।

Leave a comment