বলিউডে তারকা-সন্তানদের নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কেউ পারিবারিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পান, আবার কেউ দীর্ঘ সংগ্রামের পর নিজের জায়গা তৈরি করেন। সেলিম খানের ছেলে ও সলমন খানের ভাই আরবাজ খানের কেরিয়ারও শুরু হয়েছিল একাধিক ব্যর্থতা ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই কঠিন সময়ই তাঁকে অন্য পথে সাফল্যের রাস্তা দেখায়।
একের পর এক ছবি বন্ধ, থমকে যায় অভিষেক
বলিউডে আরবাজ খানের অভিষেক হওয়ার কথা ছিল ১৯৯২ সালে 'ফুটপথ' ছবির মাধ্যমে। সেই ছবির জন্য তিনি অন্য একটি বড় প্রজেক্টেও না করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছবিটির শুটিং মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তাঁর প্রথম বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়।এরপর ভাই সোহেল খানের প্রযোজনায় 'রাম' ছবির কাজ শুরু হলেও প্রযোজকদের মতবিরোধের কারণে সেটিও আর শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়নি।
হলিউড রিমেকও আর তৈরি হল না
এরপর আরবাজের হাতে আসে আরও একটি বড় সুযোগ। জিনাত আমানের সঙ্গে একটি জনপ্রিয় হলিউড ছবির হিন্দি রিমেকে অভিনয়ের কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে টানা তিনটি সম্ভাবনাময় ছবি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হওয়ার আগেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
খলনায়কের চরিত্রেই ঘুরে দাঁড়ানো
এই কঠিন সময়ে ঝুঁকি নিয়ে ১৯৯৬ সালে 'দারার' ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন আরবাজ খান। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত স্বামীর ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ খলনায়ক পুরস্কারও জেতেন।এই সাফল্যের পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে 'পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া', 'হাল্লা বোল' এবং 'শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা'-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
প্রযোজক হিসেবেও বড় সাফল্য
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক হিসেবেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন আরবাজ। ২০১০ সালে তাঁর প্রযোজিত 'দাবাং' মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার সাফল্য পায়। ছবিটি শুধু ব্যবসায়িকভাবেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবেও বলিউডে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনায়
১৯৯৮ সালে অভিনেত্রী মালাইকা অরোরাকে বিয়ে করেন আরবাজ খান। তাঁদের এক ছেলে, আরহান খান। ২০১৭ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেকআপ আর্টিস্ট শুরা খানকে বিয়ে করে নতুন জীবনের সূচনা করেন তিনি।
বিখ্যাত পরিবারে জন্মালেই যে সাফল্য নিশ্চিত নয়, তার বড় উদাহরণ আরবাজ খান। কেরিয়ারের শুরুতেই একের পর এক ছবি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধাক্কা খেতে হয় তাঁকে। তবে শেষ পর্যন্ত খলনায়কের চরিত্রে বাজিমাত করে ঘুরে দাঁড়ান অভিনেতা। পরে প্রযোজক হিসেবেও পান বিরাট সাফল্য।









