এতদিন মালদহের নাম শুনলেই মনে পড়ত সুস্বাদু আমের কথা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আর এক ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য—আশাপুর বেগুন। দীর্ঘদিনের গবেষণা, নথিপত্র সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের পর অবশেষে মালদহের চাঁচল-১ ব্লকের আশাপুর গ্রামের এই বিশেষ জাতের বেগুন জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI) স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ফলে কৃষকদের মুখে এখন হাসি, আর জেলার কৃষি ঐতিহ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়।
জিআই স্বীকৃতিতে ইতিহাস গড়ল আশাপুর বেগুন
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাস-৩১ বিভাগের অধীনে জিআই নম্বর ৯৯২-এ আশাপুর বেগুনের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ জারি হওয়া এই শংসাপত্রের মাধ্যমে আশাপুর বেগুন সরকারি স্বীকৃতির পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও পেল। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনও অঞ্চলের উৎপাদিত বেগুন এই নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
কীভাবে মিলল এই স্বীকৃতি?
আশাপুর বেগুনের বিশেষ স্বাদ, বড় আকার, গুণমান এবং ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চালানো হয়। মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা, কৃষকদের মতামত, কৃষি বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রমাণ করা হয় যে এই বেগুনের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে আশাপুর এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই ভিত্তিতেই মিলেছে জিআই স্বীকৃতি।
কৃষকদের জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা
জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আশাপুর বেগুনের বাজারমূল্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশ-বিদেশে এই কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কৃষকরা সাধারণ বেগুনের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রশাসনের মতে বড় সাফল্য
জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানান, এই স্বীকৃতি শুধু আশাপুর নয়, গোটা মালদহ জেলার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে চাঁচল-১ ব্লক ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন। অতিরিক্ত জেলাশাসকও স্থানীয় কৃষিপণ্যের উন্নয়নে এটিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, আশাপুর বেগুনের স্বাদ, আকৃতি, মান এবং প্রথাগত চাষপদ্ধতিই একে অন্য সব জাতের বেগুন থেকে আলাদা করেছে। জিআই তকমা পাওয়ার ফলে এই পণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং কৃষকদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।
এবার নজর নবাবগঞ্জের বেগুনেও
আশাপুর বেগুনের সাফল্যের পর মালদহের আরও একটি জনপ্রিয় কৃষিপণ্য—নবাবগঞ্জের বেগুনের জন্যও ভবিষ্যতে জিআই স্বীকৃতির আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলার ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্যের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালদহের ঐতিহ্যবাহী আশাপুর বেগুন পেল বহুল প্রতীক্ষিত জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI) স্বীকৃতি। জিআই নম্বর ৯৯২-এর অধীনে নথিভুক্ত হওয়ায় এই বিশেষ কৃষিপণ্য আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিচিতিও পাবে। প্রশাসন ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।











