অসমের কাছাড় জেলায় অসম রাইফেলস এবং ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই), শিলচরের যৌথ দল প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা মূল্যের ৫.৬০ লক্ষ মেথামফেটামাইন বা ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে। অভিযানে এক কথিত মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যবর্তী রাতে কাছাড় জেলার লখিপুর এলাকার জুজাং পাহাড়ে এই অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তাদের মতে, জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেটের মোট ওজন প্রায় ৬০ কিলোগ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬৮ কোটি টাকার বেশি।
অসম রাইফেলস এবং ডিআরআইয়ের শিলচর ইউনিট মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান চলাচলের তথ্য পাওয়ার পর লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালায়। নিরাপত্তা দল জুজাং পাহাড় এলাকায় একটি সন্দেহজনক গাড়ির ওপর নজরদারি চালিয়ে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করে।
তল্লাশির সময় প্রায় ৫,৬০,০০০টি মেথামফেটামাইন বা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়, যাকে কর্মকর্তারা কথিত মাদক পাচারকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কথিতভাবে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি, জব্দ করা মাদক এবং গাড়ি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন চালানটির উৎস, এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। গ্রেফতার ব্যক্তিটি কোনো বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ধরনের তদন্তে ফোন রেকর্ড, যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং গাড়ির চলাচলের মতো বিষয়ও পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে এই মামলায় এমন তদন্তের বিষয়ে সমস্ত সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অসম রাইফেলসের মতে, জব্দ করা চালানটি প্রতিবেশী মণিপুর থেকে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এটি ইম্ফল-জিরিবাম রুট হয়ে জাতীয় সড়ক-৩৭ দিয়ে অসমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক মূল্যায়নে কাছাড় এবং শ্রীভূমি জেলাকে কথিত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পথ দিয়ে মাদক অসম এবং দেশের অন্যান্য অংশে পাঠানোর আশঙ্কা রয়েছে।
মেথামফেটামাইন দিয়ে তৈরি ইয়াবা একটি সিন্থেটিক উত্তেজক মাদক। উপলব্ধ প্রতিবেদনের অনুযায়ী, এই ট্যাবলেটগুলিতে মেথামফেটামাইনের সঙ্গে ক্যাফিনও থাকে এবং এগুলি দ্রুত উত্তেজক হিসেবে অপব্যবহার করা হয়। এই পদার্থ অত্যন্ত আসক্তি তৈরি করতে পারে এবং স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত মাদক রুটে ইয়াবার অবৈধ বাণিজ্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। তবে কোনো একটি চালান উদ্ধারের ভিত্তিতে পুরো নেটওয়ার্কের কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তদন্তে অন্যান্য অভিযুক্ত, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সামনে আসার পরই নেটওয়ার্কের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ এবং বেশ কয়েকটি অংশে বেড়াহীন সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। মিয়ানমার-সংলগ্ন অঞ্চলগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন এবং মেথামফেটামাইনসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের সম্ভাব্য উৎস ও ট্রানজিট এলাকা হিসেবে দেখা হয়েছে।
মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত। পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এবং একাধিক ছোট-বড় রুটের কারণে এই এলাকাগুলিতে নজরদারি জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাই সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটেও অভিযান চালায়।
কাছাড়ের অবস্থান এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি মণিপুর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাগুলির আশঙ্কা, পাচারকারীরা অবৈধ চালান আরও দূরে পাঠাতে এই রুট ব্যবহার করতে পারে।
গ্রেফতার ব্যক্তি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সংস্থাগুলি তার কাছ থেকে চালানটি কে দিয়েছিল, কোথায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এর বিনিময়ে কী ধরনের অর্থপ্রদান হওয়ার কথা ছিল, সে সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছে।
বড় চালান উদ্ধারের ঘটনায় একজন অভিযুক্তের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে তার দোষ প্রমাণিত হয়নি। তাই তাকে কথিত অভিযুক্ত হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
১৬৮ কোটি টাকা আনুমানিক মূল্যের মেথামফেটামাইন চালান উদ্ধারের পর তদন্ত এখন কথিত আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের অন্যান্য অংশের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ট্রাকসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে চালানটি মণিপুর থেকে এসে এনএইচ-৩৭ দিয়ে পরিবহনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কাছাড় এবং শ্রীভূমিকে সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অসম রাইফেলসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তরুণদের মাদক নেটওয়ার্ক থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং পাচারের রুটে বাধা সৃষ্টি করা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।










