মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠক, অক্টোবরে সেনাপতি মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

মঠকে রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং কেন্দ্রের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মণিপুর সফরে অমিত শাহ সেনাপতি জেলায় প্রস্তাবিত নতুন মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করবেন।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং বুধবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মণিপুর-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় জানিয়েছে, অমিত শাহ রাজ্যের বিষয়গুলি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মণিপুরের মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, অমিত শাহ অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মণিপুর সফর করবেন। সফরের সময় তিনি সেনাপতি জেলায় প্রস্তাবিত নতুন মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং রাজ্যের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অমিত শাহ সম্মতি দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে রাজ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় অনুযায়ী, অমিত শাহ বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে শোনেন এবং কেন্দ্রের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে আলোচিত সব বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অমিত শাহ মণিপুর সফর করবেন। এই সফরে সেনাপতি জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেনাপতি জেলায় স্থাপন করা হবে। এই জেলায় নাগা সম্প্রদায়ের বড় জনসংখ্যা রয়েছে।

সেনাপতি জেলায় প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজটি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অমিত শাহ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সম্মতি দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, অমিত শাহ সফরের সময় মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পও পর্যালোচনা করবেন। কোন কোন প্রকল্প পর্যালোচনা করা হবে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

বৈঠকে অমিত শাহ ইম্ফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি বাস পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়টিরও প্রশংসা করেন। রাজ্য সরকার ২১ আগস্ট প্রায় তিন বছর পর এই আন্তঃরাজ্য গণপরিবহন পরিষেবা ফের চালু করে।

সরকারি ও স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনে এই রুটে দুটি বাস এবং পাঁচটি উইঙ্গার গাড়িতে মোট ১২৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। বাসগুলি কাংপোকপি ও সেনাপতির মতো সংবেদনশীল এলাকা দিয়ে নাগাল্যান্ড হয়ে গুয়াহাটি পৌঁছায়।

অমিত শাহ জাতীয় সড়ক-২-এ মানুষের মুক্ত চলাচল পুনরুদ্ধারে রাজ্য সরকারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। NH-2 মণিপুরকে নাগাল্যান্ড এবং এরপর অসমের সঙ্গে যুক্ত করে।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতের পর এই রুটে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয়েছিল। ২১ আগস্ট বাস পরিষেবা পুনরায় চালুর সময় ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত ১২৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেন।

ইম্ফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি রুটে প্রায় তিন বছর ধরে গণপরিবহন পরিষেবা ব্যাহত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতের পর এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃরাজ্য রুটে গণপরিবহন প্রভাবিত হয়।

অক্টোবরে মণিপুর সফরের সময় অমিত শাহ রাজ্যের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পও পর্যালোচনা করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

রাজ্যে স্বাস্থ্য, পরিবহন ও পরিকাঠামো-সংক্রান্ত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা এই উদ্যোগের অংশ।

গত কয়েক বছরের হিংসা মণিপুরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। রাজ্য সরকারের সামনে স্বাভাবিক জনজীবন পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া এবং NH-2-এ মুক্ত চলাচল বাড়ানোর উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহন ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ এমন সময় হয়েছে, যখন মণিপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, NRC, জনগণনা এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও বিভিন্ন সংগঠন ও নেতাদের সক্রিয়তা বেড়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী ও অমিত শাহের বৈঠকের সরকারি বিবরণে এসব বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মণিপুরের মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের আশ্বাস এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

অমিত শাহের প্রস্তাবিত অক্টোবর সফরে সেনাপতি মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করা হবে। সম্প্রতি পুনরায় চালু হওয়া গণপরিবহন পরিষেবা এবং জাতীয় সড়কে চলাচলের পরিস্থিতিও এই সময় পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

Leave a comment