প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘খেলো ইন্ডিয়া সংবাদ’ কর্মসূচিতে দেশের যুবসমাজ ও জেন-জেডের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি খেলাধুলা, উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা এবং ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে যুবশক্তির ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে নতুন ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খেলাধুলার গুরুত্ব শুধু প্রতিযোগিতায় জয় বা পদক অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করে।
জেন-জেডের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের সৃজনশীল চিন্তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের মনে নিয়মিত নতুন ধারণা ও নতুন চিন্তা আসা উচিত। যুবসমাজ যখন তাদের কল্পনাশক্তি ও শক্তিকে নতুন ক্ষেত্রে কাজে লাগায়, তখন দেশের অগ্রগতিও গতি পায়।
খেলাধুলাকে জীবনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠে একজন খেলোয়াড় জয় ও পরাজয়—দুইয়েরই মুখোমুখি হন। পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানো এবং লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া খেলাধুলার অন্যতম বড় শিক্ষা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু চ্যাম্পিয়ন হতে শেখায় না, বরং আরও ভালো প্রতিযোগী হতেও শেখায়। তাঁর মতে, খেলাধুলা একজন মানুষকে পরাজয়ের পর নিজের ঘাটতিগুলি বুঝতে, সেগুলি সংশোধন করতে এবং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে শেখায়।
![]()
তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেলাধুলা থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাস পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনেও কাজে লাগে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে উপস্থাপিত ভারতের ক্রীড়া-দৃষ্টিভঙ্গিরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতে খেলাধুলাকে শুধু পদক জয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের ক্রীড়া সক্ষমতা ও যুবশক্তিকে একসঙ্গে যুক্ত করা ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ।
খেলাধুলায় ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পরিচয় আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিতে বলেন, ‘যাঁরা খেলেন, তাঁরা বিকশিত হন।’ তিনি এই ভাবনাকে শুধু মাঠের জয়ের সঙ্গে যুক্ত না করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেন।
তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড়ের সাফল্যের প্রভাব শুধু সেই খেলোয়াড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর পরিবার পরিচিতি পায় এবং তাঁর স্কুল বা কলেজের সম্মান বাড়ে। একইসঙ্গে খেলোয়াড়ের সাফল্য তাঁর জেলা ও রাজ্যের পরিচয়কেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তিশালী করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে যুবসমাজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সফল খেলোয়াড়রা তাঁদের সঙ্গে সেই স্থানটির নামও এগিয়ে নিয়ে যান, যেখান থেকে তাঁরা তাঁদের যাত্রা শুরু করেছিলেন।
কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে যুবসমাজ ও খেলাধুলা নতুন অগ্রাধিকার পেয়েছে।
মাণ্ডব্য বলেন, যুবসমাজকে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতে খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত কার্যকলাপ হিসেবে দেখার ধারণায় পরিবর্তন এসেছে এবং এখন এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।










