কৃষিকাজে লাভের মুখ দেখতে চাইলে বদল আনতেই হবে পদ্ধতিতে—এমনটাই প্রমাণ করে দেখালেন Anand Kumar Maurya। জৈব উপায়ে কলা চাষ করে তিনি শুধু নিজের আর্থিক অবস্থাই বদলাননি, অন্য চাষিদের কাছেও হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা।
চিরাচরিত চাষ ছেড়ে আধুনিক পথে সাফল্য
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার পালহরি গ্রামের কৃষক Anand Kumar Maurya আগে সাধারণ ফসল ও সবজি চাষ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে কলা চাষ শুরু করেন। গত কয়েক বছরে এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
কেন ‘সোনার খনি’ কলা চাষ?
কলা এমন একটি ফল, যার চাহিদা সারা বছরই থাকে। ফলে বাজারে বিক্রির কোনও সমস্যা হয় না। বিশেষ করে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কলার স্বাদ ও গুণমান বেশি হওয়ায় এর দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। ফলে চাষিরা নিয়মিত ও স্থায়ী আয় করতে পারেন।
জৈব পদ্ধতিতেই বেশি লাভ
এই চাষে কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন হওয়ায় মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং গাছও কম অসুস্থ হয়। ফলে অতিরিক্ত খরচ কমে এবং লাভের পরিমাণ বাড়ে।
খরচ কম, লাভ বেশি—হিসাব বলছে তাই
এক একর জমিতে কলা চাষ করতে মোট খরচ হয় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল বিক্রির পর সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিট লাভ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তুলনামূলক কম বিনিয়োগে কয়েকগুণ বেশি রিটার্ন।
অন্য চাষিদের জন্য বড় সুযোগ
অনেকেই মনে করেন জৈব চাষ ব্যয়বহুল, কিন্তু বাস্তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক। শুধু কলা নয়, একই পদ্ধতিতে অন্যান্য ফসল চাষ করেও ভালো আয় সম্ভব। তাই যারা নতুন কিছু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি লাভজনক ব্যবসার সুযোগ হতে পারে।
চিরাচরিত চাষ ছেড়ে আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে কলা চাষ করে বিপুল লাভ করছেন কৃষক Anand Kumar Maurya। মাত্র ৬০-৬৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে এক একর জমি থেকে মিলছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মুনাফা।












