ঢাকা: দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর সাধারণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। নির্বাচনী প্রচার শেষ, শুরু হতে চলেছে ভোটগ্রহণ। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা—ক্ষমতার মসনদে কি ফিরবে বিএনপি, নাকি চমক দেখাবে জামাত-এ-ইসলামি ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন জোট? ভোটের আগেই প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট, যা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
২৯৯ আসনে ভোট, নজর ৩০০ আসনের সংসদে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩০০। তবে এবার ভোটগ্রহণ হবে ২৯৯টি কেন্দ্রে। একই দিনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রায় ১২৭ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেবেন এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। মোট প্রার্থী সংখ্যা ১,৯৮১—যা এবারের ভোটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আওয়ামি লিগ ছাড়া ভোটের ময়দান
এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে দলটি নিষিদ্ধ হওয়ায় মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়েছে দু’টি বড় রাজনৈতিক শিবিরে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, অন্যদিকে জামাত-এ-ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলের জোট।
প্রথম সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি?
একটি বহুল আলোচিত জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৩৩-৩৫ শতাংশ ভোটার সরাসরি বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পূর্বাভাস বলছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে প্রায় ২০৮টি আসনে জয় পেতে পারে বিএনপি জোট। সেই হিসাব মিললে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নামই সামনে আসবে।
জামাত-এনসিপি জোটের সম্ভাবনা কতটা?
একই সমীক্ষা বলছে, জামাত নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে প্রায় ৪৬টি আসন। জাতীয় পার্টি সম্ভাব্য ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং নির্দল প্রার্থী প্রায় ১৭টি আসনে জয় পেতে পারেন। তবে ভোট শতাংশের বিচারে জামাতের সমর্থন ১১-১২ শতাংশের আশপাশে বলে দাবি করা হয়েছে।
নারী ভোট ও আঞ্চলিক সমীকরণ
সমীক্ষায় উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—মহিলা ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। প্রায় ৭১ শতাংশ মহিলা ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করতে পারেন বলে দাবি। চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে, অন্যদিকে বরিশাল ও খুলনায় জামাতের প্রভাব বেশি হতে পারে। রংপুরে জাতীয় পার্টির জমি এখনও শক্ত বলেই ইঙ্গিত।
অন্য সমীক্ষায় টানটান লড়াই
তবে সব সমীক্ষা একপাক্ষিক নয়। আরেকটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি পেতে পারে ৪৪.১ শতাংশ ভোট, জামাত-এনসিপি জোট ৪৩.৯ শতাংশ। আসনের বিচারে জামাত জোট ১০৫টি ও বিএনপি ১০১টি কেন্দ্রে এগিয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৭৫টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ৬ শতাংশের বেশি ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন।
সমীক্ষা বনাম বাস্তব ফল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনমত সমীক্ষা ভোটের একটি ইঙ্গিতমাত্র। শেষ মুহূর্তের প্রচার, জোট-সমীকরণ, ভোটার উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক ফ্যাক্টর ফলাফল বদলে দিতে পারে। অতীতেও একাধিকবার দেখা গেছে, সমীক্ষার ফল ও চূড়ান্ত ভোটফল আলাদা হয়েছে।
২০০৮ সালের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশ। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণের আগে একাধিক জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ ইঙ্গিত। কোথাও এগিয়ে বিএনপি, কোথাও টানটান লড়াই জামাত-এনসিপি জোটের সঙ্গে। আসন ও ভোট শতাংশের হিসাবে কে কতটা সুবিধাজনক অবস্থানে, তারই বিশদ বিশ্লেষণ।










