দিনভর কাজের ক্লান্তি থাকলেও রাতে বিছানায় গিয়েও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। একবার ফোন হাতে নিলে স্ক্রোল করতে করতেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমোতে যাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে একটি ছোট্ট বদল আনলেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র—স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন, আর দেখুন ঘুম নিজে থেকেই ধরা দিচ্ছে।

অনিদ্রার নেপথ্যে ‘নীল আলো’র প্রভাব
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এই আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুম ভেঙে ভেঙে যায়।
মাত্র ১ ঘণ্টার ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এই পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন। এই সময়টাকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স আওয়ার’ হিসেবে ধরতে পারেন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।

বিকল্প অভ্যাসে মিলবে প্রশান্তি
স্ক্রিনের বদলে এই সময়টায় কিছু সহজ কাজ করতে পারেন—
বই পড়া
হালকা সঙ্গীত শোনা
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
হালকা স্ট্রেচিং
ধ্যান বা প্রার্থনা
পরিবারের সঙ্গে শান্ত আলাপচারিতা
এই অভ্যাসগুলো মানসিক চাপ কমায় এবং স্নায়ুকে শিথিল করে।
দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের অভাবে কী ক্ষতি?
ঘুমের ঘাটতি শুধু ক্লান্তিই আনে না। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও তরুণদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম পড়াশোনা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভাল ঘুমের জন্য আরও কয়েকটি টিপস
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান ও উঠুন
শোবার ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখুন
রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
বিছানাকে শুধু ঘুম ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

অনিদ্রা এখন ঘরে ঘরে সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল-টিভি-ল্যাপটপ বন্ধ রাখলেই মিলতে পারে গভীর ও আরামদায়ক ঘুম। নীল আলো কমিয়ে সহজ কিছু অভ্যাস বদলেই মিলবে স্বস্তি।













