বড়দিন মানেই কেক, চকলেট আর খুশির রঙিন আমেজ। আর সেই উৎসবের মাঝেই বাঁকুড়ার কেন্দুয়াডিহিতে জন্ম নিচ্ছে এক অনুপ্রেরণার গল্প। গৃহবধূ সহেলী রক্ষিত এই বড়দিনে নিজের হাতের জাদুতে তৈরি করেছেন প্রায় শতাধিক কাস্টমাইজড কেক, যার প্রতিটিই আলাদা নকশা, আলাদা স্বাদ আর আলাদা গল্পে মোড়া।
কেকের সঙ্গে জুড়েছে আবেগ আর গল্প
সহেলীর তৈরি কেক শুধু মিষ্টি নয়, তাতে মিশে আছে ক্রেতার অনুভূতি। শিশুদের কার্টুন থিম, কাপল কেক, চার্চ ডিজাইন, সান্তা ক্লজ বা নাম-বার্তা লেখা স্পেশাল কেক—সব ধরনের অর্ডারই সামলেছেন তিনি একাই। অর্ডার অনুযায়ী ফ্লেভার, ডিজাইন ও বাজেট ঠিক করে দেওয়াই তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি।
কেকের বাইরেও কাস্টমাইজড চকলেটের চাহিদা
শুধু কেকেই থেমে নেই তাঁর সৃজনশীলতা। সহেলীর কথায়, “শীতের মরশুম মানেই প্রেমের মরশুম।” সেই ভাবনা থেকেই তৈরি করছেন হৃদয়ছোঁয়া কাস্টমাইজড চকলেট। ভালবাসার বার্তা, প্রিয়জনের নাম কিংবা বিশেষ তারিখ—সবই ফুটে উঠছে তাঁর হাতে তৈরি চকলেটে। বড়দিন, জন্মদিন, অ্যানিভার্সারি—সব উপলক্ষেই চাহিদা তুঙ্গে।
ঘর থেকেই শুরু, এখন স্বনির্ভরতার দিশা
ঘরোয়া পরিবেশেই কেক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন সহেলী। নিজের আগ্রহ আর নিরলস পরিশ্রমে ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জন করেন। শুধু নিজে কাজ করেই থেমে থাকেননি—বর্তমানে তিনি অন্যান্য গৃহবধূদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন, যাতে তাঁর মতো আরও মহিলারা স্বনির্ভর হতে পারেন।
উৎসবের মরশুমেই আয় আর আত্মবিশ্বাস
সহেলী জানান, এই কয়েক দিনে এত অর্ডার সামলাতে গিয়ে কার্যত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, “শতাধিক কেক বানিয়েছি, ঠিক সংখ্যাটা মনেই নেই। সব রকম দামের কাস্টমাইজ কেক করেছি।” উৎসবের মরশুমকে কাজে লাগিয়েই যে ঘরে বসে ভালো আয় সম্ভব, তাঁর কাজই তার বাস্তব প্রমাণ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ছোট বেকারি ইউনিট
এই গৃহবধূর স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতে একটি ছোট বেকারি ইউনিট খোলা এবং আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। সংসারের পাশাপাশি নিজের দক্ষতায় দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চান তিনি।
বড়দিনে শুধু উৎসব নয়, সাফল্যের গল্পও লিখলেন বাঁকুড়ার কেন্দুয়াডিহির গৃহবধূ সহেলী রক্ষিত। ঘরে বসেই প্রায় শতাধিক কাস্টমাইজড কেক ও চকলেট তৈরি করে প্রমাণ করলেন—উৎসবের মরশুমই হতে পারে স্বনির্ভরতার সেরা সুযোগ।













