মুজফ্ফরপুরে তিরহুত স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটগণনায় নির্দল প্রার্থী বংশীধর ব্রজবাসী এগিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক প্রবণতায় তিনি জেডিইউ প্রার্থী অভিষেক ঝাকে পিছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আরজেডি সমর্থিত প্রার্থী ডঃ রশ্মি বিনায়ক গৌতমও ভোটগণনায় অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন। গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ কাছাকাছি হয়েছে। প্রথম পছন্দের ভোটে জয় নির্ধারিত না হলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথম রাউন্ডের ভোটগণনায় বংশীধর ব্রজবাসী ২,৮১৩টি ভোট পেয়েছিলেন। জেডিইউ প্রার্থী অভিষেক ঝা পেয়েছিলেন ১,৭৩৯টি ভোট এবং তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। আরজেডি সমর্থিত ডঃ রশ্মি বিনায়ক গৌতম পেয়েছিলেন ১,৪০৭টি ভোট। প্রথম রাউন্ডের হিসাব অনুযায়ী, অভিষেক ঝার তুলনায় ১,০৭৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন ব্রজবাসী। তবে পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ভোটের ব্যবধানের পরিবর্তন ঘটে এবং অভিষেক ঝাও নিজের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করেন। ভোটগণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয় যে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে প্রতিটি রাউন্ডের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।
ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা শেষেও এগিয়ে ছিলেন বংশীধর ব্রজবাসী। তবে তাঁর ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২৩৫ ভোটে। এই পর্যায়ে ব্রজবাসী ২,৩২৭টি ভোট পান, আর অভিষেক ঝার ঝুলিতে আসে ২,০৯২টি ভোট। এর আগে পঞ্চম রাউন্ডে ব্রজবাসী ৫৩৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ধারাবাহিকভাবে ভোটের ব্যবধান পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কাছাকাছি হয়ে ওঠে। ফলে প্রাথমিক ব্যবধানের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সরকারি ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি।
তিরহুত স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রের নির্বাচনে পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটগণনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের প্রথম ও পরবর্তী পছন্দের ক্রমে ভোট দিতে পারেন। প্রথম পছন্দের ভোটে কোনও প্রার্থী জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট না পেলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পছন্দের ভোট গণনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কম ভোট পাওয়া প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে গণনার বাইরে রাখা হতে পারে। তাঁদের ব্যালটে নথিভুক্ত পরবর্তী পছন্দের ভোট নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে অবশিষ্ট প্রার্থীদের ভোটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই কারণে প্রথম পছন্দের ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীর ব্যবধান চূড়ান্ত ফল ঘোষণা পর্যন্ত বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বংশীধর ব্রজবাসীর এগিয়ে থাকা এই নির্বাচনে নির্দল প্রার্থীর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জেডিইউ প্রার্থী অভিষেক ঝার প্রাপ্ত ভোট এবং দুই প্রার্থীর মধ্যে পরিবর্তনশীল ব্যবধানের দিকেও নজর রয়েছে। আরজেডি সমর্থিত ডঃ রশ্মি বিনায়ক গৌতমের প্রাপ্ত ভোটও গণনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরবর্তী রাউন্ডের ভোটগণনা এবং দ্বিতীয় পছন্দের ভোটের হিসাব থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত ফল কোন দিকে যায়, তা স্পষ্ট হবে। সরকারি ফল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।












