৬ বছরেও রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলছে সন্তান? বকাঝকা নয়, কারণ জেনে নিন—কী বলছেন চিকিৎসকরা

শিশু রাতে বিছানায় প্রস্রাব করলে কী করবেন? নকটার্নাল এনুরেসিসের কারণ, চিকিৎসা, সতর্কতার লক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

রাতুলের বয়স ছয় বছর। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে সে। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তার বাবা-মা। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বহু অভিভাবকই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকে বকাঝকা বা লজ্জা না দিয়ে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নকটার্নাল এনুরেসিস কী?

চিকিৎসকদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের পর যখন একটি শিশুর মূত্রথলির উপর স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ তৈরি হওয়ার কথা, তখনও যদি ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব হয়ে যায়, তাকে নকটার্নাল এনুরেসিস বলা হয়। এটি শিশুদের মধ্যে সাধারণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিছানায় প্রস্রাব করার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু শিশুর মূত্রথলি তুলনামূলক ধীরে বিকশিত হয়, ফলে সারারাত প্রস্রাব ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আবার পারিবারিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাবা বা মা শৈশবে একই সমস্যায় ভুগে থাকলে সন্তানের মধ্যেও সেই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।এছাড়াও গভীর ঘুম, ছোট মূত্রথলি এবং ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোনের ঘাটতির মতো কারণও সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ শিশু পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এই অভ্যাস কাটিয়ে ওঠে। তবে সাত বছর বয়সের পরও যদি নিয়মিত বিছানা ভেজানোর সমস্যা থাকে, অথবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।কিছু ক্ষেত্রে এটি মূত্রনালীর সংক্রমণ, ডায়াবেটিস বা মানসিক চাপের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

অভিভাবকদের কী করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুকে কখনও দোষারোপ বা শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং মানসিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সমস্যা কমাতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা যেতে পারে—

ঘুমানোর আগে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করানো

সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত তরল পান কমানো

ক্যাফেইন বা গ্যাসযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা

রাতে একবার শিশুকে টয়লেটের জন্য জাগানো

মানসিকভাবে নিরাপদ ও চাপমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা

চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে

যদি সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা বিশেষ থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্লাডার ট্রেনিং, বিহেভিয়ারাল থেরাপি এবং কাউন্সেলিংও কার্যকর ফল দেয়।বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, জলরোধী ম্যাট্রেস কভার বা শোষণকারী প্যাড ব্যবহার করলে অভিভাবকদের দৈনন্দিন অসুবিধাও অনেকটা কমে।

পাঁচ-ছয় বছর বয়স পেরিয়েও অনেক শিশুর ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করার অভ্যাস থেকে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নকটার্নাল এনুরেসিস’। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক সমস্যা হলেও নির্দিষ্ট বয়সের পরও সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক অভ্যাস, মানসিক সমর্থন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Leave a comment