Best Geyser: এই শীতে গিজার কেনার আগে কোন কোন বিষয় জানা জরুরি? এই ভুলগুলো এড়ালেই বাঁচবে হাজার হাজার টাকা

শীতে গিজার কেনার আগে জেনে নিন স্টোরেজ, বিদ্যুৎ খরচ, সেফটি ফিচার ও জলের মান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ টিপস। সঠিক গিজার বাছলেই কমবে বিল, বাড়বে সুবিধা।

 

শীতকাল মানেই সকালে গরম জলের প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এই সময় বাজারে গিজারের চাহিদা হু হু করে বাড়ে। তবে শুধু দাম বা অফার দেখে গিজার কিনলে পরে আফসোস করতেই হয়। সঠিক প্রয়োজন বুঝে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখলে একদিকে যেমন বাড়বে সুবিধা, তেমনই কমবে দীর্ঘমেয়াদি খরচ।

স্টোরেজ না ইনস্ট্যান্ট— কোন গিজার আপনার জন্য ঠিক?

গিজার কেনার আগে প্রথমেই ঠিক করতে হবে কোন ধরনের গিজার আপনার দরকার। বাজারে মূলত দুই ধরনের গিজার পাওয়া যায়—স্টোরেজ এবং ইনস্ট্যান্ট।স্টোরেজ গিজারে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল আগে থেকে গরম হয়ে জমা থাকে, যা পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে ইনস্ট্যান্ট গিজার সঙ্গে সঙ্গে জল গরম করলেও এর ধারণক্ষমতা কম, তাই এক বা দু’জনের ব্যবহারের জন্যই বেশি কার্যকর।

পরিবারের সদস্য অনুযায়ী ক্যাপাসিটি বাছুন

গিজারের স্টোরেজ ক্ষমতা ঠিক না হলে সমস্যা বাড়ে। এক বা দুই জনের পরিবার হলে ৫ লিটারের গিজার যথেষ্ট। চার-পাঁচ জনের পরিবারের জন্য ১৫ থেকে ২০ লিটারের গিজার বেশি সুবিধাজনক। যারা বালতি দিয়ে স্নান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কম ক্যাপাসিটির গিজারেও কাজ চলে যায়।

বিদ্যুৎ খরচ কমাতে স্টার রেটিং দেখুন

গিজার প্রায় প্রতিদিনই ব্যবহার হয়, তাই বিদ্যুৎ খরচ একটি বড় বিষয়। ৪ বা ৫-স্টার রেটিংযুক্ত গিজার শুরুতে কিছুটা দামি হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই অতিরিক্ত দাম উঠে আসে।

সেফটি ফিচার কখনোই অবহেলা করবেন না

জল ও বিদ্যুতের ব্যবহার একসঙ্গে হওয়ায় গিজারে সেফটি ফিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অটো কাট-অফ, থার্মাল প্রোটেকশন ও প্রেশার রিলিজ ভালভ থাকলে গিজার অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।

ট্যাংকের মেটেরিয়ালেই নির্ভর করে গিজারের আয়ু

গিজারের ট্যাংক যত ভালো হবে, গিজার ততদিন টিকবে। স্টেইনলেস স্টিল বা গ্লাস-কোটেড ট্যাংক জং ধরার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দেয়। সস্তা মেটেরিয়ালের ট্যাংক হলে দ্রুত লিকেজ বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হার্ড ওয়াটার এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জরুরি

যেসব এলাকায় জলের মান হার্ড বা লবণাক্ত, সেখানে সাধারণ গিজার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই অ্যান্টি-স্কেল বা অ্যান্টি-করোশন প্রোটেকশনযুক্ত গিজার নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে হিটিং এলিমেন্টের ক্ষতি কম হয় এবং গিজারের আয়ু বাড়ে।

শীত পড়তেই গরম জলের চাহিদা বাড়ে, আর তখনই অনেকেই তাড়াহুড়ো করে গিজার কিনে ফেলেন। কিন্তু সঠিক গিজার না বাছলে বিদ্যুৎ বিল বাড়ে, বারবার সার্ভিসিংয়ের ঝামেলা হয়। গিজারের ধরন, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি, বিদ্যুৎ খরচ, সেফটি ফিচার ও জলের মান—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই সহজে টাকা বাঁচানো সম্ভব।

Leave a comment