কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ। তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলগত পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতরে হানার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নামেন তিনি, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভোরের অভিযানে থমথমে সেক্টর ফাইভ
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে শুরু হয় ইডির তল্লাশি। একাধিক গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকা কার্যত ঘিরে ফেলা হয়। অফিসপাড়া হওয়ায় সকাল থেকেই সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
ইডির অভিযানের খবর পৌঁছতেই প্রথমে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দু’জনের মধ্যে।
‘দল আছে, আমি আছি’— আশ্বাস মমতার
প্রতীক জৈনকে মানসিকভাবে ভরসা দিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি এবং দল সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে রয়েছে। এই আশ্বাস রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইপ্যাক অফিসে মুখোমুখি ইডি আধিকারিকরা
এরপর সোজা সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। দফতরে ঢুকেই ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন তিনি। অভিযোগের সুরে মমতা বলেন, এই তল্লাশির উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা
ইডি আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য,
“তোমরা সব চুরি করতে এসেছ? এটা কী ধরনের অভিযান?”
এই মন্তব্যে মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে অফিস চত্বরে।
‘সব সেটল না হলে যাব না’— কড়া অবস্থান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইপ্যাক অফিস ছেড়ে যাবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
গঙ্গাসাগর মেলার জন্য রওনা, কিন্তু বার্তা স্পষ্ট
গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধনে আউট্রাম ঘাটে যাওয়ার জন্য বিকেলে দফতর ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তবে যাওয়ার আগে প্রতীক জৈনকে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে যান তিনি।
‘নজর রাখো, রিপোর্ট তৈরি করো’
সূত্রের খবর, বেরোনোর সময় মমতা প্রতীক জৈনকে বলেন,
“তুমি থাকো, নজর রাখো… আমি আবার আসছি। কী কী নথি নেই, তার রিপোর্ট রেডি করো।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
কয়লা পাচার মামলার সূত্রে তল্লাশি
জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে এই অভিযান চালাচ্ছে ইডি। যদিও আইপ্যাকের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক অফিসে ইডি হানাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। খবর পেয়েই আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জরুরি কর্মসূচিতে বেরোনোর সময় প্রতীক জৈনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, সব নথির হিসাব তৈরি রাখতে—তিনি আবার ফিরবেন।











