বিশ্ব যখন গোলাপ, চকোলেট আর দামী উপহারে ভালবাসা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন বীরভূমের মাটিতে এক অন্য ছবি। নেই ঝলমলে আয়োজন, নেই দামি উপহারের বাহার—আছে শুধু বিশ্বাস, ভক্তি আর আজীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার। ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে স্ত্রীকে পাশে নিয়েই দিন শুরু করলেন ‘বাদামকাকু’ খ্যাত ভুবন বাদ্যকর।
দুবরাজপুরে ভালবাসার সহজ ছবি
বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের কুরালজুড়ি গ্রাম। সেখানেই এখনো মাটির গন্ধ মেখে বসবাস করেন ভাইরাল ‘কাঁচা বাদাম’ গানের শিল্পী ভুবন বাদ্যকর। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে অনুরাগীদের কৌতূহল—স্ত্রীকে কী উপহার দিলেন তিনি? উত্তর শুনে অবাক অনেকেই।
দামী উপহার নয়, তিথির গুরুত্ব
শিল্পী জানালেন, “আজ আমাদের একাদশী চলছে।” অর্থাৎ এই বিশেষ দিনে তাঁরা আধ্যাত্মিক নিয়ম-নিষ্ঠাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। উপহারের আদান-প্রদানের বদলে উপবাস, ভক্তি আর সংযমের মধ্য দিয়েই দিনটি কাটিয়েছেন দম্পতি। ভালবাসার প্রকাশ তাঁদের কাছে বস্তু নয়, বরং মানসিক বন্ধনে।
‘যেখানেই যাই, ওনাকে নিয়েই যাই’
ভুবনবাবুর কথায় স্পষ্ট, তাঁর কাছে স্ত্রীর সঙ্গই সবচেয়ে বড় উপহার। বাজার হোক বা কোনও অনুষ্ঠান—স্ত্রী আদরী দেবী সর্বত্র তাঁর সঙ্গী। তিনি বলেন, “ও যখন যা চায়, সেটাই পায়।” এই এক বাক্যেই ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা। কোনও কৃত্রিমতা নয়, সহজ স্বীকারোক্তিতেই ভালবাসার শক্ত ভিত্তি।
নীরব উপস্থিতিতেই আবেগ
স্বামীর মুখে এমন প্রশংসা শুনে লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠেন আদরী দেবী। ক্যামেরার সামনে বিশেষ কিছু না বললেও তাঁর হাসি আর চাহনিতেই স্পষ্ট ছিল আবেগের ভাষা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের উত্থান-পতনে যিনি ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন, তাঁর জন্য আলাদা করে প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না।
‘জয় রাধে’ ধ্বনিতে শেষ কথা
শেষে ‘জয় রাধে’ ধ্বনি দিয়ে ভালবাসার মূল মন্ত্র জানিয়ে দিলেন ভুবনবাবু। তাঁর মতে, দামী গয়না বা বাহুল্য নয়—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসই সম্পর্কের আসল ভিত্তি। এই সরল দর্শনই আবারও প্রমাণ করল, ভালবাসা আসলে সাধারণ জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে।
দামী গয়না নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আর সঙ্গ—এই দুই-ই ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে স্ত্রীর জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে তুলে ধরলেন ‘কাঁচা বাদাম’ খ্যাত শিল্পী ভুবন বাদ্যকর। বীরভূমের কুরালজুড়ি গ্রামে স্ত্রী আদরী দেবীর সঙ্গে তাঁর সহজ-সরল উদযাপন মন ছুঁয়েছে ভক্তদের।













