বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনের নির্বাচনের ফলাফল ও গণনার প্রবণতার দিকে নজর রয়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত আপডেট অনুযায়ী, চারটি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, চারটি স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভোট গণনা চলছে। পাটনা শিক্ষক আসনে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর ড. সঞ্জীব কুমার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নবল কিশোর যাদবকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। তিরহুত শিক্ষক আসনে বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিং জয়ী হয়েছেন। দরভাঙা শিক্ষক আসনে জন সুরাজ-সমর্থিত প্রার্থী সুরেশ প্রসাদ রাই এবং সারন শিক্ষক আসনে নির্দল প্রার্থী ড. রাহুল রাজ জয়লাভ করেছেন।
পাটনা শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। এই আসনে আরজেডির ড. সঞ্জীব কুমার বিজেপির নবল কিশোর যাদবকে ১,০৫৭ ভোটে পরাজিত করেছেন। চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ড. সঞ্জীব কুমার পেয়েছেন ৪,৪৮৭ ভোট এবং নবল কিশোর যাদব পেয়েছেন ৩,৪৩০ ভোট। জন সুরাজের প্রার্থী ড. দিব্যা জ্যোতি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এই ফলাফলের ফলে পাটনা শিক্ষক আসনে নবল কিশোর যাদবের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী আধিপত্যের অবসান হয়েছে। এর আগে তিনি পরপর পাঁচবার এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন।
তিরহুত শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিং নির্দল প্রার্থী ভূষণ কুমার ঝাকে ৫৯৪ ভোটে পরাজিত করেছেন। এর আগে তিনি দু’বার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার জয়ের ফলে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আসনে জয়লাভ করলেন। ভোট গণনা শেষে নরেন্দ্র প্রসাদ সিংকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
দরভাঙা শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে জন সুরাজ-সমর্থিত প্রার্থী সুরেশ প্রসাদ রাই কংগ্রেসের বর্তমান বিধান পরিষদ সদস্য মদন মোহন ঝাকে পরাজিত করেছেন। উপলব্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়ের ব্যবধান ৩২৪ ভোট।
অন্যদিকে, সারন শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে নির্দল প্রার্থী ড. রাহুল রাজ জয়ী হয়েছেন। এই দুই আসনের ফলাফলে শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থী এবং নির্দল প্রার্থীদের জয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
চারটি শিক্ষক আসনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর এখন নজর রয়েছে স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির ভোট গণনার দিকে। পাটনা স্নাতক আসনে জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) নীরজ কুমার এবং জন সুরাজের অনুজ সিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলোচনায় রয়েছে। গণনা চলাকালীন নীরজ কুমার নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোট গণনা সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এই নির্বাচনী ক্ষেত্রে পছন্দক্রমভিত্তিক ভোট গণনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রাথমিক পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
তিরহুত স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে তৃতীয় দফার ভোট গণনা পর্যন্ত নির্দল প্রার্থী বংশীধর ব্রজবাসী এগিয়ে ছিলেন। উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি পেয়েছিলেন ৬,৯৮৪ ভোট। জেডিইউয়ের অভিষেক ঝা পেয়েছিলেন ৫,৯৬৪ ভোট এবং আরজেডির ড. রশ্মি বিনায়ক গৌতম পেয়েছিলেন ৪,৮৭৫ ভোট। ওই পর্যায়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ব্রজবাসী ১,০২০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে এটি ছিল গণনার ওই পর্যায়ের প্রবণতা। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য পরবর্তী দফার গণনা সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
দরভাঙা স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে পঞ্চম দফার গণনা শেষে এনডিএ-সমর্থিত প্রার্থী সর্বেশ কুমার এগিয়ে ছিলেন। উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি পেয়েছিলেন ৮,৯৩০ ভোট। আরজেডির অনিল কুমার ঝা পেয়েছিলেন ৭,৫৪৫ ভোট, জন সুরাজের মহম্মদ ইমতিয়াজ পেয়েছিলেন ৪,৫৭৭ ভোট এবং কংগ্রেসের রজনীকান্ত পাঠক পেয়েছিলেন ২,৫৫২ ভোট। ওই পর্যায়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় সর্বেশ কুমার ১,৩৮৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ভোট গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার পরই এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে।
কোসি স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দের ভোট গণনায় বিজেপির ড. এনকে যাদব এগিয়ে ছিলেন। উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি পেয়েছিলেন ২৪,০৭৫ ভোট। আরজেডির নিতেশ যাদব পেয়েছিলেন ১৮,৫৩৫ ভোট এবং জন সুরাজের রজনীশ রঞ্জন পেয়েছিলেন ১৫,৩০৬ ভোট। এই আসনে মোট ৭৪,৪০১টি ভোট পড়েছিল। এর মধ্যে ৬৪,৪০১টি ভোট বৈধ বলে জানানো হয়েছিল।
প্রথম পছন্দের ভোট গণনায় প্রয়োজনীয় ভোট না মিললে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই আসনেও প্রাথমিক ব্যবধানকে চূড়ান্ত জয় হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনের নির্বাচনে শিক্ষক ও স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ঘোষিত চারটি শিক্ষক আসনে আরজেডি, বিজেপি, জন সুরাজ-সমর্থিত প্রার্থী এবং নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, চারটি স্নাতক আসনে ভোট গণনার প্রবণতা সামনে এসেছে। আটটি আসনের সবকটির চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরই বিজয়ীদের সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।











