বিহারে সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের ১৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৪ জন পেনশনভোগীর জীবন প্রমাণীকরণ বা লাইফ সার্টিফিকেট এখনও বাকি রয়েছে। সরকার জীবন প্রমাণীকরণ সম্পন্ন করার শেষ সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের পেনশন প্রদান প্রভাবিত হতে পারে।
রাজ্য সরকার গত কয়েক মাস ধরে পেনশনভোগীদের জীবন প্রমাণীকরণের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। এরপরও বিপুল সংখ্যক সুবিধাভোগীর যাচাই সম্পন্ন হয়নি। এখন প্রশাসনের লক্ষ্য হল বকেয়া মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা, যাতে যোগ্য প্রবীণ, বিধবা মহিলা এবং প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীরা নিয়মিত পেনশনের সুবিধা পেতে পারেন।
সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পের আওতায় বিহারে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পান। বর্তমানে পেনশনের পরিমাণ প্রতি মাসে ১১০০ টাকা। সরকার এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিবিটির মাধ্যমে পাঠায়। ফলে পেনশন প্রদানের প্রক্রিয়ায় জীবন প্রমাণীকরণ সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জীবন প্রমাণীকরণের উদ্দেশ্য হল পেনশন প্রকল্পের সুবিধা সঠিক ও জীবিত সুবিধাভোগীই পাচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করা। যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডও আপডেট করা হয়। যেসব সুবিধাভোগীর জীবন প্রমাণীকরণ এখনও বাকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
মুজফ্ফরপুর জেলাতেও বিপুল সংখ্যক পেনশনভোগীর জীবন প্রমাণীকরণ বাকি রয়েছে। জেলায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ১৪৪ জন সুবিধাভোগীর যাচাই এখনও বাকি বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে মুশহরি ব্লকে সবচেয়ে বেশি ১৩ হাজার ৬৩৩টি মামলা বাকি রয়েছে। বকেয়া মামলাগুলি বিবেচনায় নিয়ে জেলাশাসক কুমার গৌরব সব বিডিওকে ব্লকভিত্তিক তালিকা পাঠিয়ে অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুজফ্ফরপুর পুরনিগম এলাকাতেও বকেয়া জীবন প্রমাণীকরণ সম্পন্ন করতে বিশেষ শিবির আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরনিগমের ৪৯টি ওয়ার্ডে শিবির আয়োজন করা হবে এবং এর জন্য ৯৮ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া সুবিধাভোগীর যাচাই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যস্তরে ৩৮টি জেলার রিপোর্ট অনুযায়ী, পাটনায় প্রায় ১.৩৭ লক্ষ জীবন প্রমাণীকরণ বাকি রয়েছে, যা সর্বাধিক। এরপর রয়েছে মুজফ্ফরপুর। গয়াজিতেও প্রায় ১ লক্ষ মামলা এখনও বাকি রয়েছে। অন্যদিকে, শেখপুরায় বকেয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৩,৬০০। প্রশাসন ব্লকস্তরে শিবিরগুলির অগ্রগতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করা। যাঁরা এখনও জীবন প্রমাণীকরণ করাননি, তাঁরা নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার বা CSC-তে গিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন। বিহার সরকারের e-Labharthi পোর্টালেও জীবন প্রমাণীকরণ সংক্রান্ত সুবিধা ও তথ্য পাওয়া যায়।
অনলাইনে জীবন প্রমাণীকরণ করতে সমস্যায় পড়া সুবিধাভোগীদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবির আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁরা নিজেদের ব্লক, পঞ্চায়েত বা নগর সংস্থার স্তরে উপলব্ধ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। কিছু জেলায় বিকাশ মিত্রদের মাধ্যমে শারীরিক যাচাইয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
প্রশাসন আধিকারিকদের শুধু অনলাইন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে বকেয়া পেনশনভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীরা যাতে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
জীবন প্রমাণীকরণ বাকি থাকলে পেনশন প্রদানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিহার সরকারের e-Labharthi পোর্টালেও যেসব সুবিধাভোগী এখনও জীবন প্রমাণীকরণ করাননি, তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী CSC কেন্দ্রে গিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। পোর্টালে আধার সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার সিডিংয়ের তথ্যও আপডেট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পেনশনভোগীদের মনে রাখতে হবে, আধার নম্বর থাকা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার সিডিং থাকা আলাদা বিষয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার সিডিংয়ের অবস্থা সঠিক না হলে পেনশনের অর্থ প্রদানে সমস্যা হতে পারে। তাই জীবন প্রমাণীকরণের পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা উচিত।
বিহারে সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পের আওতা বিস্তৃত। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বৃদ্ধজন পেনশন যোজনা, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বৃদ্ধাবস্থা পেনশন যোজনা, বিধবা পেনশন যোজনা, প্রতিবন্ধী পেনশন যোজনা এবং লক্ষ্মীবাই সামাজিক সুরক্ষা পেনশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রবীণ, বিধবা মহিলা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
গত বছর পেনশনের পরিমাণেও পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিহার সরকার সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের মাসিক পরিমাণ ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করেছিল। এরপর লক্ষ লক্ষ সুবিধাভোগী বর্ধিত অর্থ পাচ্ছেন।
সরকার চলতি বছরও ডিবিটির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে পেনশনের অর্থ পাঠাচ্ছে। আগস্টে জুলাই মাসের পেনশনের অর্থ রাজ্যের ১ কোটিরও বেশি পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তথ্য সামনে এসেছিল।
এই পরিস্থিতিতে যেসব সুবিধাভোগীর জীবন প্রমাণীকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো যাচাই সম্পন্ন হলে রেকর্ড আপডেট থাকবে এবং পেনশন প্রদানে বাধার আশঙ্কা কমবে।
জীবন প্রমাণীকরণ পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক প্রবীণ ও অন্যান্য সুবিধাভোগী তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। প্রতি মাসে পাওয়া ১১০০ টাকা তাঁদের ওষুধ, খাবার ও দৈনন্দিন ছোটখাটো খরচে সহায়তা করে। তাই যাচাইয়ে দেরির কারণে অর্থপ্রদান প্রভাবিত হলে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।
প্রশাসনের সামনে এখন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ১৭ লক্ষেরও বেশি বকেয়া মামলা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য জেলা থেকে পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তর পর্যন্ত অভিযান চালানো হবে। আধিকারিকদের বকেয়া সুবিধাভোগীদের তালিকা অনুযায়ী তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিবির আয়োজন করে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
মুজফ্ফরপুরে ৪৯টি ওয়ার্ডে শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়ার অংশ। সেখানে ৯৮ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত বেশি সম্ভব পেনশনভোগীর যাচাই সম্পন্ন করা যায়।
যেসব পেনশনভোগীর চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে বা কোনো কারণে CSC কেন্দ্রে যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা নগর সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রশাসনও এমন সুবিধাভোগীদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পেনশনভোগীদের কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে ব্যাংক পাসওয়ার্ড, OTP বা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জীবন প্রমাণীকরণের নামে প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র অনুমোদিত CSC, সরকারি শিবির বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা উচিত।
পেনশনভোগীরা বিহারের সরকারি SSPMIS পোর্টালেও নিজেদের সুবিধাভোগী রেকর্ড ও অর্থপ্রদানের অবস্থা দেখতে পারেন। পোর্টালে সুবিধাভোগীর অবস্থা, প্রকল্প সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।
কোনো সুবিধাভোগী জীবন প্রমাণীকরণ সম্পন্ন করার পরও যদি রেকর্ডে তা আপডেট না দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিস বা CSC থেকে রসিদ ও যাচাই সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অবস্থাটি পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো রেকর্ডের কোনো প্রযুক্তিগত বা নথিগত সমস্যা সংশোধন করলে পরবর্তী সময়ে পেনশন প্রদানে সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।
বিহারে ১৭.১৯ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগীর জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের জীবন প্রমাণীকরণ এখনও বাকি, তাঁদের দ্রুত যাচাই সম্পন্ন করা উচিত। রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন বকেয়া মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ অভিযান ও শিবির পরিচালনা করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জীবন প্রমাণীকরণ সম্পন্ন না হলে পেনশন প্রদান প্রভাবিত হতে পারে।











