বীরভূমের ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ হেতমপুর রাজবাড়ি! শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে এই ঐতিহ্য না দেখলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ

শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে দেখে নিন বীরভূমের হেতমপুর রাজবাড়ি। ইতিহাস, টেরাকোটা মন্দির ও অফবিট পর্যটনের সম্পূর্ণ গাইড এখানে।

একঘেয়ে সমুদ্র ভ্রমণ ছেড়ে যদি একটু অন্য স্বাদের খোঁজে থাকেন, তবে বীরভূম হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। বিশেষ করে শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে কাছেই লুকিয়ে থাকা হেতমপুর রাজবাড়ি না দেখলে আপনার ট্রিপ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ইতিহাস, স্থাপত্য ও রহস্যের মিশেলে এই জায়গা এখন ধীরে ধীরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

বীরভূমের ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ হেতমপুর রাজবাড়ি! শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে এই ঐতিহ্য না দেখলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ

অফবিট বীরভূমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

দিঘা, পুরী, মন্দারমনি ঘুরে যারা নতুন কোনও গন্তব্য খুঁজছেন, তাদের কাছে এখন বীরভূম অন্যতম পছন্দ। এখানে রয়েছে একাধিক সতীপীঠ, তারাপীঠের মতো ধর্মীয় স্থান এবং কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন—সব মিলিয়ে ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা।

ইতিহাসে ঘেরা হেতমপুর রাজবাড়ির কাহিনি

ইলেমবাজারের জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছতে হয় হেতমপুর রাজবাড়িতে। একসময় এই এলাকার নাম ছিল হাতিমপুর। রাজনগরের রাজা বদিউজ্জমানের সেনাপতি হাতিম খাঁ শাল নদীর তীরে এই রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে হাফেজ খাঁর হাতে এই রাজবংশের উত্তরাধিকার যায়।

বীরভূমের ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ হেতমপুর রাজবাড়ি! শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে এই ঐতিহ্য না দেখলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ

যাতায়াত সহজ, সময়ও কম লাগে

শান্তিনিকেতন বা বোলপুর থেকে খুব সহজেই পৌঁছনো যায় হেতমপুরে। ইলেমবাজারের জঙ্গল পেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িতে পৌঁছে যাবেন এই ঐতিহাসিক স্থানে। দুবরাজপুর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই রাজবাড়ি।

মিনি হাজারদুয়ারির স্বাদ, সঙ্গে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

হেতমপুর রাজবাড়িকে অনেকেই ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ বলে থাকেন। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ির অনেকটাই জীর্ণ হয়ে গেছে, তবুও এর স্থাপত্য এখনও আকর্ষণীয়। বড় বড় গাছ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ—সব মিলিয়ে রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করেছে।

বীরভূমের ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ হেতমপুর রাজবাড়ি! শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে এই ঐতিহ্য না দেখলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ

টেরাকোটা মন্দির ও প্রাচীন নিদর্শনের ভাণ্ডার

রাজবাড়ির একাংশ বর্তমানে সংস্কার করে স্কুলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রঞ্জন প্রাসাদে সংরক্ষিত রয়েছে দুষ্প্রাপ্য চিত্রকলা ও প্রাচীন সামগ্রী। গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পুরনো জলাশয় এবং টেরাকোটা শিল্পে তৈরি শিবমন্দির, যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

বীরভূমের ‘মিনি হাজারদুয়ারি’ হেতমপুর রাজবাড়ি! শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে এই ঐতিহ্য না দেখলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ

দিঘা-পুরীর ভিড় ছেড়ে এবার অফবিট ভ্রমণের খোঁজে? বীরভূমের হেতমপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আপনাকে দেবে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কীভাবে যাবেন ও কী দেখবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

Leave a comment