বীরভূমের মামা-ভাগ্নে পাহাড়ে প্রকৃতির অদ্ভুত খেলা! এক পাথরের উপর আরেক পাথর, সিমেন্ট ছাড়াই কীভাবে দাঁড়িয়ে? ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে

দুবরাজপুরের মামা-ভাগ্নে পাহাড়ের অদ্ভুত পাথুরে গঠন, পাহাড়েশ্বর শিবমন্দির, ভবানী মন্দির ও যাতায়াতের উপায় জানুন। পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন বীরভূমের এই দর্শনীয় স্থান থেকে।

শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে চান? তাহলে পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বীরভূমের দুবরাজপুরের মামা-ভাগ্নে পাহাড় থেকে। এখানে পাশাপাশি থাকা বিশাল পাথরের গঠন আর একটির উপর অন্যটির ভারসাম্য দেখে অবাক হতে হয়। তার সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় ইতিহাস এবং পাথুরে পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ভ্রমণের জন্য জায়গাটি হতে পারে দারুণ পছন্দ।

এক পাথরের উপর আরেক পাথর, প্রকৃতির বিস্ময় মামা-ভাগ্নে পাহাড়

বীরভূম বলতেই অনেকের মনে পড়ে শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ কিংবা বক্রেশ্বরের কথা। তবে জেলার দুবরাজপুর শহরের মামা-ভাগ্নে পাহাড়ও পর্যটনের মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হল বিশালাকার, প্রায় গোলাকার পাথরের গঠন। একটি পাথর অন্যটির উপর এমনভাবে ভারসাম্য রেখে রয়েছে যে প্রথম দেখায় বিস্ময় জাগে। কোনও সিমেন্ট বা আঠা ছাড়াই পাথরগুলির এই অবস্থান প্রকৃতির দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

স্থানীয় মানুষের মুখে এই পাহাড় ঘিরে নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। সেই গল্প আর পাথরের অদ্ভুত গঠন মিলিয়ে জায়গাটির প্রতি পর্যটকদের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।

সত্যজিৎ রায়ের ‘অভিযান’ ছবির সঙ্গেও রয়েছে যোগ

মামা-ভাগ্নে পাহাড়ের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গেও এই জায়গার সম্পর্ক রয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘অভিযান’-এ এই অঞ্চলের পাথুরে সৌন্দর্য দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি বাংলা সিনেমার অনুরাগীদের কাছেও জায়গাটি আকর্ষণীয়। বিশাল পাথরের ফাঁকে হাঁটা, চারপাশের দৃশ্য দেখা এবং ছবি তোলার সুযোগ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারে।

পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড়েশ্বর শিবমন্দির

মামা-ভাগ্নে পাহাড় ঘুরতে গেলে দেখে নিতে পারেন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রাচীন পাহাড়েশ্বর শিবমন্দির। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি মন্দিরের পরিবেশও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

পাথুরে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে মন্দির দর্শন ভ্রমণে অন্য মাত্রা যোগ করে। যাঁরা ধর্মীয় স্থান ঘুরতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে।

চূড়ায় ভবানী মন্দির, উপর থেকে দেখা যায় দুবরাজপুর

পাহাড়ের উপরে রয়েছে ভবানী মন্দির। পাথুরে পথ পেরিয়ে উপরে উঠলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দুবরাজপুর শহরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

তবে ওঠার সময় সাবধান থাকা জরুরি। পাথুরে জায়গায় পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আরামদায়ক জুতো পরুন, শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাঁদের দিকে বিশেষ নজর রাখুন এবং বৃষ্টি হলে পিচ্ছিল পথে ওঠার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

শীতকাল কিংবা পুজোর ছুটিতে একদিনের ভ্রমণ

পরিবার, বন্ধু কিংবা ছোটদের নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে মামা-ভাগ্নে পাহাড় ভালো বিকল্প হতে পারে। খোলা প্রকৃতি, পাথুরে ভূদৃশ্য এবং মন্দির দর্শন—এক জায়গাতেই মিলবে নানা অভিজ্ঞতা।

শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকলে ঘোরাঘুরি সহজ হতে পারে। তবে যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া এবং যাতায়াতের পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো। জায়গাটি পরিষ্কার রাখুন এবং পাথরের উপর ওঠার সময় ঝুঁকিপূর্ণ কসরত করা থেকে বিরত থাকুন।

কীভাবে যাবেন মামা-ভাগ্নে পাহাড়?

ট্রেনে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে দুবরাজপুর যাওয়ার উপযুক্ত ট্রেনের সময়সূচি দেখে যাত্রা পরিকল্পনা করুন। সরাসরি ট্রেনের পরিষেবা ও সময় যাত্রার দিন অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া জরুরি। দুবরাজপুর স্টেশনে নেমে টোটো বা অটোয় মামা-ভাগ্নে পাহাড়ের দিকে যাওয়া যায়।

গাড়িতে: বোলপুর, শান্তিনিকেতন বা বক্রেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া করে দুবরাজপুর ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। আশপাশের অন্য দর্শনীয় স্থান মিলিয়ে একদিনের ভ্রমণও সাজানো সম্ভব।

যাত্রার আগে স্থানীয় পরিবহণের ভাড়া, ট্রেনের সময় এবং মন্দিরের দর্শনের সময় সম্পর্কে খোঁজ নিলে ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে রয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক আকর্ষণ—মামা-ভাগ্নে পাহাড়। বিশালাকার পাথরের অদ্ভুত ভারসাম্য, চারপাশের পাথুরে ভূদৃশ্য এবং স্থানীয় লোককথা এই জায়গাকে পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে প্রাচীন পাহাড়েশ্বর শিবমন্দির, আর চূড়ায় রয়েছে ভবানী মন্দির। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘অভিযান’-এর সঙ্গেও এই স্থানের নাম জড়িয়ে রয়েছে। কীভাবে যাবেন, কী দেখবেন—জেনে নিন বিস্তারিত।

Leave a comment