ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা হলেও, এর মধ্যেই ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভালের অবস্থান এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সহজ ছিল না। ব্লুমবার্গ দাবি করেছে, এনএসএ অজিত ডোভাল যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ভারত কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোভাল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিলেন যে বাণিজ্য চুক্তি না হলেও ভারত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত অতীতেও এমন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে যারা ভারতের প্রতি কঠোর বা শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিল। সেই কারণে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য নতুন ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হয়। ওই সময় এনএসএ অজিত ডোভালের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকে ডোভাল পরিষ্কারভাবে বলেন যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। ব্লুমবার্গের দাবি, ভারত সরকার প্রয়োজনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অবস্থানে ছিল।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ডোভাল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিলেন যে ভারত নিজের শর্ত ও স্বার্থের ভিত্তিতেই বাণিজ্য চুক্তিতে যাবে। তিনি বলেন, ভারত অতীতেও অন্যান্য মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে যারা ভারতের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোভাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা কম করেন। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে প্রকাশ্য সমালোচনা বাণিজ্য চুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল যে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব এবং প্রকাশ্য চাপ বা সমালোচনা সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে ভারত ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত ছিল। যদিও পরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক স্তরে কঠোর আলোচনা হয়েছিল এবং ভারত তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল।










