বলিউডে গ্ল্যামার, ক্যারিয়ার আর ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ বরাবরই জটিল। তার মাঝেই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এক নতুন প্রবণতা নজর কেড়েছে—৪০-এর পর মাতৃত্ব। শিল্পা শেঠি থেকে বিপাশা বসু, এমনকি ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরেও মাতৃত্বের খবর বা গুঞ্জন বলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
বয়স বনাম মাতৃত্ব: বদলাচ্ছে বলিউডের মানসিকতা
এক সময় অভিনেত্রীদের কাছে বিয়ের পর দ্রুত মা হওয়াই যেন ছিল অলিখিত নিয়ম। কিন্তু ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেকেই মাতৃত্বকে পিছিয়ে দিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন ৪০-এর পরও নিরাপদভাবে মা হওয়া সম্ভব—এই বিশ্বাসটাই জোরালো হচ্ছে।
শিল্পা শেঠি: ৪৫-এ সারোগেসির মাধ্যমে দ্বিতীয়বার মা
ফিটনেস আইকন শিল্পা শেঠি ৪৫ বছর বয়সে সারোগেসির মাধ্যমে কন্যাসন্তান সামিশাকে স্বাগত জানান। এর আগে ৩৭ বছর বয়সে ছেলে ভিয়ানকে জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। মাতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বহু নারীর কাছে আশার বার্তা।
বিপাশা বসু: দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৪৩-এ মাতৃত্ব
২০১৬ সালে করণ সিং গ্রোভারকে বিয়ে করার পর বহুদিন ধরেই বাবা-মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বিপাশা বসু। নানা জল্পনা কাটিয়ে অবশেষে ৪৩ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মাতৃত্ব বিপাশার জীবনে এনে দেয় মানসিক স্থিরতা ও নতুন আনন্দ।
ফারাহ খান: আইভিএফে ৪৩-এ তিন সন্তানের মা
চলচ্চিত্র পরিচালক ফারাহ খান ৪৩ বছর বয়সে আইভিএফের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দেন। কাজ ও সংসার—দু’দিক সামলে তাঁর মাতৃত্বের গল্প কর্মজীবী নারীদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ক্যাটরিনা কাইফ: মাতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ
ভিকি কৌশলের সঙ্গে বিয়ের পর ক্যাটরিনা কাইফ একাধিকবার মাতৃত্ব নিয়ে নিজের আবেগের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, খ্যাতি থাকলেও তিনি একজন সংবেদনশীল মানুষ এবং পরিবার গঠনের স্বপ্ন দেখেন। বয়স ৪০ পেরোনোর পর মাতৃত্ব নিয়ে তাঁকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হলেও, এই বিষয়ে দম্পতির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি।
এক সময় বলিউডে মনে করা হতো, ৩৫-এর পর মাতৃত্ব মানেই ঝুঁকি। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা, আইভিএফ ও সারোগেসির সাহায্যে সেই ধারণা বদলাচ্ছেন বহু বলিউড তারকা। ৪০ পেরিয়েও মা হয়ে তাঁরা প্রমাণ করছেন—মাতৃত্বের কোনও বয়সসীমা নেই।













