Dooars Tourism: ডুয়ার্স ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে রাজাভাতখাওয়ার নাম না থাকলে সফর থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা টাইগার রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন কেন্দ্রটি প্রকৃতি প্রেমী, বন্যপ্রাণী অনুরাগী ও ইতিহাসপ্রীতি পর্যটকদের কাছে একেবারে আদর্শ গন্তব্য।
কোথায় অবস্থিত রাজাভাতখাওয়া?
রাজাভাতখাওয়া অবস্থিত আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা টাইগার রিজার্ভ (পশ্চিম) ডিভিশনের মধ্যে। আলিপুরদুয়ার শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র প্রায় ১৪ কিলোমিটার। পাকা রাস্তা থাকায় কালচিনি ও আলিপুরদুয়ার শহর থেকে সহজেই পৌঁছনো যায়।
প্রকৃতির কোলে এক শান্ত ঠিকানা
চারিদিকে ঘন বক্সা জঙ্গল ঘেরা রাজাভাতখাওয়া এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে দেখা মেলে নানা প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি ও বন্যপ্রাণীর। পাহাড়ি হাওয়া, সবুজ বন আর নির্জন পরিবেশ পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র
এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র। এখানেই বক্সা জঙ্গলে গাড়ি সাফারির টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। কেন্দ্রটিতে বন্যপ্রাণীদের বিভিন্ন দেহাংশ সংরক্ষিত রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।
বক্সা জঙ্গল সাফারি: কীভাবে টিকিট পাবেন
বক্সা টাইগার রিজার্ভে জঙ্গল সাফারির জন্য রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট দেওয়া হয়। বন দফতরের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট রুটে গাড়িতে করেই সাফারি করা যায়। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে সাফারির সুযোগ পাওয়া সহজ হয়।
ইতিহাসের সাক্ষী রাজাভাতখাওয়া রেল স্টেশন
রাজাভাতখাওয়ার আর এক অনন্য আকর্ষণ এর ঐতিহাসিক রেল স্টেশন। ব্রিটিশ আমলে আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে রাজাভাতখাওয়া হয়ে বক্সা–জয়ন্তী পর্যন্ত একমাত্র রেলপথ ছিল এটি। ১৯০১ সালে কোচবিহারের মহারাজার উদ্যোগে গিতালদহ–জয়ন্তী রেলপথ স্থাপিত হয়, যা আজও ইতিহাসপ্রেমীদের টানে।
ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভের প্রবেশদ্বার রাজাভাতখাওয়া শুধুই জঙ্গল নয়, বরং প্রকৃতি, ইতিহাস ও অ্যাডভেঞ্চারের অনন্য মেলবন্ধন। সাফারির টিকিট কোথায় পাবেন, কী কী দেখবেন—রইল সম্পূর্ণ গাইড।













