ঘরের এক কোণে রাখা একটি বনসাই গাছ—আর তাতেই বদলে যেতে পারে পুরো ঘরের চেহারা। সাধারণ ড্রইংরুমও দেখতে লাগতে পারে কোনও অভিজাত হোটেলের লবি। বাঁকুড়ার নার্সারিগুলিতে এখন বনসাই শুধু গাছ নয়, একেবারে জীবন্ত আর্টওয়ার্ক।

বাঁকুড়ার নার্সারিতে চোখ ধাঁধানো সবুজ শিল্প
বাঁকুড়ার বিভিন্ন নার্সারিতে এখন দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত দর্শন গাছ। কোথাও গাছের কাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে মোটা, কোথাও শিকড়ের ফাঁকে তৈরি ছোট্ট বাড়ি, আবার কোনও বনসাইয়ের ভিতরে বসানো খেলনা গাড়ি। এই অভিনব সব নকশা বাঁকুড়ার নার্সারি সংস্কৃতিকে রাজ্যজুড়ে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
বনসাই ও আর্টিফিশিয়াল ল্যান্ডস্কেপিংয়ের মেলবন্ধন
এই গাছগুলি মূলত বনসাই শিল্পের সঙ্গে কৃত্রিম ল্যান্ডস্কেপিংয়ের সমন্বয়ে তৈরি। গত চার-পাঁচ বছরে বাঁকুড়ার লাল মাটির জেলায় বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও ঘরের ভেতর বাগান তৈরির প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তার জেরেই গড়ে উঠেছে একের পর এক ছোট-বড় নার্সারি।

বনসাই তৈরির মূল কৌশল কী?
নার্সারি বিশেষজ্ঞদের মতে, বনসাই তৈরির মূল ধারণা হল—
ছোট পাত্রে গাছ রেখে তাকে প্রাকৃতিকভাবে বড় গাছের মতো আকার দেওয়া। এর জন্য দরকার—
নিয়মিত শিকড় ছাঁটাই
ডাল ও শাখা-প্রশাখা ছাঁটা
তার (Wire) দিয়ে শাখাকে নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বাঁকানো
ফাইকাস, বট, পাকুড়, জুনিপার, জেড প্ল্যান্ট ও বুগেনভিলিয়া বনসাইয়ের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

মাটি ও জল নিষ্কাশন—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বনসাইয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মাটি ব্যবহার করলে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
বালি, কোকোপিট ও জৈব সার মিশিয়ে হালকা মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করুন
পাত্রে ভালো জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন
নির্দিষ্ট সময় অন্তর ‘রিপটিং’ বা পাত্র বদল করুন, যাতে শিকড় সুস্থ থাকে

শুধু সৌন্দর্য নয়, কর্মসংস্থানের নতুন দিশা
নার্সারি মালিকদের দাবি, বনসাই কেবল ঘরের শোভা বাড়ায় না—এটি ধৈর্য, যত্ন ও শিল্পমনস্কতার প্রতীক। বাঁকুড়ার মতো লাল মাটির জেলায় এই শিল্পের বিকাশ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। অনেক শিক্ষিত যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ নিয়ে পেশাগতভাবে নার্সারি ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন।

ছোট পাত্রে বড় গাছের শিল্প—এই হল বনসাই। বাঁকুড়ার নার্সারিগুলিতে এখন বনসাই আর আর্টিফিশিয়াল ল্যান্ডস্কেপিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে অভিনব সব সবুজ শিল্পকর্ম। সঠিক ছাঁটাই, তার বাঁকানো ও যত্নে একটি বনসাই-ই বদলে দিতে পারে আপনার ঘরের পুরো পরিবেশ।








